শুক্রবার, 26 অগাস্ট 2016 13:50

খুলনায় রাসায়নিক সারের বিকল্প ভার্মি কম্পোস্ট

বছরে উৎপাদন ৪৭৭ মেট্রিক টন

রাইজিংবিডি ডট কম || রাসায়নিক সারের বিকল্প হিসেবে খুলনায় ব্যবহৃত হচ্ছে ভার্মি কম্পোস্ট। প্রাতিষ্ঠানিক ও কৃষক পর্যায়ে বছরে এর উৎপাদন হয়েছে ৪৭৭ মেট্রিক টন। মাছের খামার, পাট, রবিশস্য, গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালীন শাক-সবজিতে এই সার ব্যবহার হচ্ছে। এর সঙ্গে জেলার ২১০ জন কৃষাণ-কৃষাণী সম্পৃক্ত হয়েছেন। ইতিমধ্যে মহানগরীসহ ছয় উপজেলায় এর কার্যক্রম চলছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরর সূত্র জানায়, প্রথমে মহানগরী ও ডুমুরিয়া উপজেলায় ভার্মি কম্পোস্টের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ ছাড়া রূপসা, দাকোপ, ফুলতলা, দিঘলিয়া, ডুমুরিয়া ও বটিয়াঘাটা উপজেলায় এ কম্পোস্ট চাষে উদ্ধুদ্ধ করা হয়েছে। এতে সাড়াও মিলছে। প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে জেলায় ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দুটি। এ প্রতিষ্ঠান দুটি হলো নগরীর দক্ষিণ টুটপাড়া সার্কুলার রোডস্থ এলাকায় অবস্থিত মৃত্তিকা এগ্রো রিসার্স এন্ড ট্রেড সেন্টার, অপরটি রূপসা উপজেলার জাবুসা এলাকায় অবস্থিত আরেকটি প্রতিষ্ঠান। প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে মোট ট্যাংকির সংখ্যা ১৯টি এবং বছরে এ ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন হয় ৫৮ মেট্রিক টন।  

কৃষক পর্যায়ে বর্তমানে উৎপাদনকারী চাষির সংখ্যা ২১০ জন। এরমধ্যে পুরুষ ৯৩ এবং মহিলা ১১৭ জন। ট্যাংকির সংখ্যা রয়েছে ২১৩টি। বছরে উৎপাদন হয় ৪১৯ মেট্রিক টন। প্রাতিষ্ঠানিক ও কৃষক পর্যায়ে বছরে মোট উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৪৭৭ মেট্রিক টন। এটি জৈব সার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। কেঁচো এবং গোবরের মাধ্যমে তৈরি করা হচ্ছে। প্রতিকেজি ভার্মি কম্পোস্ট বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা দরে। অর্গানিক সবজি চাষসহ ফলজ ও বনজ বৃক্ষ চাষে ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহার করা হচ্ছে। মৎস্য চাষেও এর ব্যবহার হচ্ছে। মৎস্য চাষে পুকুরে বিঘাপ্রতি ২০০ কেজি ভার্মি কম্পোস্ট ও পিএইচআর নামক ওষুধ প্রয়োগ করলে তিন মাসের মধ্যে ওই পুকুরে কোনো খাবারের প্রয়োজন হয় না। এমনই মন্তব্য করেছেন প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ের একজন খামারি। এমনকি এ তিন মাসে পুকুরের তলদেশে জুপ্লাংকটন ও ফাইটোপ্লাংকটন উৎপাদন হবে এবং এতে অন্য খাবারের কোনো প্রয়োজন হবে না।      

নগরীর দক্ষিণ টুটপাড়া সার্কুলার রোডস্থ এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা জাহিদ আলম বিপ্লব রাইজিংবিডিকে বলেন, ২০১৪ সালের আগস্ট মাসে পত্রিকার মাধ্যমে ভার্মি কম্পোস্টের ওপর একটি প্রতিবেদন দেখে যশোরের লিটু নামে এক ব্যক্তির প্রতিষ্ঠানে যান তিনি। ওই প্রতিষ্ঠান দেখে তিনি উদ্ধুদ্ধ হন। পরে নভেম্বর মাসে প্রথমে তার বাড়ির আঙ্গিনায় তিনটি ট্যাংকি তৈরি করে যশোর থেকে ১৯ হাজার টাকা দিয়ে ২০ হাজার কেঁচো ক্রয় করেন। এ কেঁচো আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি হয়। কেঁচো লাল ও কালো রঙের। তিনি আরও বলেন, পূর্বের কেঁচো থেকেই বিপ্লবের ফার্মে ১২ লাখ কেঁচো উৎপাদন হয়েছে। যার দাম ১০ লাখ ৮০ হাজার টাকা। বর্তমানে ২১টি ট্যাংকিতে তার প্রতিমাসে ২৪০০ কেজি ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন হচ্ছে। যার দাম ৪৮ হাজার টাকা। 

২০১৪ সালের বৃক্ষরোপণ মেলায় তিনি ২৫ হাজার টাকার ভার্মি কম্পোস্ট বিক্রি করেন। চলতি বছর প্রথম দফায় তিনি বরিশালে ২৫০ কেজি ভার্মি কম্পোস্ট বিক্রি করেন। এছাড়া গেল বছর বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় উপ-পরিচালক, অতিরিক্ত উপ-পরিচালক তার ফার্মটি পরিদর্শনও করেন। পরিদর্শনের ভিত্তিতে বিভাগের ১০ জেলার সমন্বয়ে ভিডিও কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া প্রতি তিন মাস অন্তর বিপ্লব যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর খুলনার কার্যালয়ে ভার্মি কম্পোস্টের ওপর চাষিদের প্রশিক্ষণ দেন।      

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আব্দুল লতিফ বলেন, রাসায়নিক সারের বিকল্প হিসেবে সরকারিভাবে খুলনা মেট্রোতে এবং ডুমুরিয়া উপজেলায় ভার্মি কম্পোস্টের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এছাড়া রূপসা, দাকোপ, ফুলতলা, দিঘলিয়া, ডুমুরিয়া ও বটিয়াঘাটা উপজেলায় এ কম্পোস্ট চাষে উদ্ধুদ্ধ করা হয়েছে। এতে সাড়াও মিলছে। ভবিষ্যতে রাসায়নিক সার যাতে সাশ্রয় হয়, এজন্য কৃষি দপ্তর ভার্মি কম্পোস্টের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এ কম্পোস্ট ব্যবহারে কৃষকদের আর্থিক সাশ্রয় হবে বলেও তিনি জানান। সার তৈরির পদ্ধতি : প্রথমে ১০ ফুট দৈর্ঘ্য, ৩ ফুট প্রস্থ ও ১ ফুট উচ্চতাবিশিষ্ট ট্যাংকি তৈরি করতে হবে। এরপর ওই ট্যাকিংর ১১ ইঞ্চি উচ্চতা পরিমাণ জায়গা জুড়ে ২৫-৩০ হাজার কেঁচো, ২৫০ কেজি গোবর পাটের বস্তা দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। তবে গোবর রোদে হালকা শুকিয়ে নিতে হবে। ৪০ দিন পর প্রত্যেক ট্যাংকিতে ২০০ কেজি ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার উৎপাদন হবে।