মঙ্গলবার, 09 জুন 2015 11:31

রসুনের দাম বেড়েছে কেজিতে ১৫ টাকা

বণিক বার্তা ।। রমজান উপলক্ষে দিনাজপুরে বাড়তে শুরু করেছে রসুনের দাম। এক মাসের ব্যবধানে পণ্যটির দাম বেড়েছে প্রতি ৫০ কেজিতে ৪০০-৪৫০ আর কেজিতে ১০-১৫ টাকা। ব্যবসায়ীরা জানান, রমজানে রসুনের চাহিদা বেশি থাকায় এখনই বাড়তে শুরু করেছে পণ্যটির দাম।

দিনাজপুরের বৃহৎ বাজার নুরুল আমিন সুপার মার্কেট (বাহাদুর বাজার), রেল বাজারহাট, গোপালগঞ্জ বাজার, শিকদারহাট ও চকবাজারে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে রসুন। শিকদারহাট এলাকার শমসের আলী জানান, এখন প্রতি ৫০ কেজি রসুন বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬৫০ থেকে ১ হাজার ৭৫০ টাকায়; এক মাস আগে একই পরিমাণ পণ্যের দাম ছিল ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩৫০ টাকা। অর্থাৎ এ সময়ের ব্যবধানে রসুনের দাম প্রতি ৫০ কেজিতে বেড়েছে ৪০০-৪৫০ টাকা। এছাড়া খুচরায় প্রতি কেজি রসুন বিক্রি হচ্ছে ৪০-৪৫ টাকায়। ৩০ দিন আগে একই পরিমাণ পণ্য বিক্রি হয়েছিল ২৫-৩০ টাকায়। অর্থাৎ এ সময়ের ব্যবধানে রসুনের দাম কেজিতে বেড়েছে ১৫ টাকা।

চকবাজারের খুচরা বিক্রেতা আলী আকবর বলেন, ‘আমরা ২-১ টাকা লাভে রসুন বিক্রি করছি। বর্তমানে মহাজনরা কিছুটা দাম বাড়িয়ে দেয়ায় আমাদেরও বাড়াতে হয়েছে।’ তবে মূল্যবৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে তিনি কিছু বলেননি।

সাধারণত বছরের সেপ্টেম্বরের শেষে এবং অক্টোবরের প্রথম দিকে রসুন বপন করা হয়। মাঠ থেকে রসুন উত্তোলন শেষ হয় মে মাসে। তবে আগাম লাভের আশায় অনেকে আগেই পণ্যটি উত্তোলনের পর বিক্রি করে দেন।

সদ্য শেষ হওয়া মৌসুমে দিনাজপুরের ১৩ উপজেলায় ১ হাজার ৫৬৪ হেক্টর জমিতে রসুন আবাদ হয়েছিল। এর বিপরীতে শস্যটির উৎপাদন লক্ষ্য ধরা হয়েছিল ১০ হাজার ২৪৪ টন। গত মৌসুমে জেলার সবচেয়ে বেশি রসুন আবাদ হয় খানসামা উপজেলায়। গত মৌসুমে এ উপজেলার ৮৫২ হেক্টর জমিতে রসুন আবাদ হয়। এর বিপরীতে উৎপাদন হয়েছিল ৫ হাজার ৫৮০ টন। এছাড়া গত মৌসুমে চিরিরবন্দর উপজেলায় ২৩০ হেক্টর, বিরলে ২১০, কাহারোলে ১৫৫, সদর উপজেলায় ১৫০, নবাবগঞ্জে ১৩০, বোচাগঞ্জে ১২৫, ফুলবাড়ীতে ৭৬, পার্বতীপুরে ৪০, বিরামপুর ও ঘোড়াঘাট উপজেলায় ১৫ এবং হাকিমপুর উপজেলায় ১২ হেক্টর জমিতে রসুনের আবাদ হয়েছিল।

কৃষি বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে রসুন আবাদে তেমন কোনো সমস্যা হয়নি। প্রতিবারের মতো মে মাসে শেষ হওয়া গত মৌসুমে খানসামা উপজেলায় রসুনের চাষ সবচেয়ে বেশি হয়েছে। ফলনও হয়েছে বাম্পার এবং বাজার দাম পেয়ে কৃষকরাও খুশি। কিন্তু সাধারণ ক্রেতারা মূল্যবৃদ্ধিতে হতাশা প্রকাশ করছেন।