শুক্রবার, 12 জুন 2015 15:47

কৃষক এখনো ধানের দর পাচ্ছেন না

এপ্রিলে বোরো ধান কাটা শুরু হওয়ার পর থেকে সেই একই চিত্র। দাম কমছে প্রতি সপ্তাহে। ন্যায্যমূল্য না পাওয়া হতাশ কৃষকের কষ্ট জাতীয় সংসদ থেকে শুরু করে সর্বত্র আলোচনা হচ্ছে। সরকার থেকে বলা হয়েছিল, মে মাসে সরকারি সংগ্রহ শুরু হলেই দাম বাড়বে। কিন্ত পরিস্থিতি এখনো আগের মতোই।
এরই মধ্যে বাজার দরের চেয়ে কম দামে ভারতীয় চাল আমদানি বেড়েছে। আর হাটে ধান নিয়ে এসে ফিরে গেছেন কৃষক। সরকার ১০ মে চাল আমদানির ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। কিন্ত মে মাসে সরকারি ধান-চাল সংগ্রহ পুরোদমে শুরু করা যায়নি। চাল আমদানিও থেমে থাকেনি। ফলে ধানের দামের ওপর এর প্রভাব পড়েনি।
১০ লাখ টন চাল ও ১ লাখ টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে খাদ্য বিভাগ গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মাত্র ২ লাখ ৩২ হাজার টন চাল সংগ্রহ করতে পেরেছে। খাদ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত চাল আমদানি হয়েছে ১৪ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন। আরও ১৬ লাখ টন চাল আমদানিপত্র খোলা হয়েছে।
এতে ধান-চালের দর প্রতি সপ্তাহেই কমছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দৈনিক খাদ্যশস্য প্রতিবেদন অনুযায়ী, গেল সপ্তাহে চিকন ও মাঝারি মানের চালের দর দেড় শতাংশ কমেছে। আর মোটা চালের দর টানা দেড় মাস ধরে ক্রমাগত কমার পর এ সপ্তাহে স্থির হয়েছে।
ধানের দাম কমার প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা থেকেও একাধিক প্রতিবেদন ও চিঠি পাঠানো হয়েছে। পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) দেশের ১৫টি জেলার ধানের মূল্য হ্রাসসংক্রান্ত একটি বিশেষ প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, সরকার ধানের যে সংগ্রহমূল্য ঘোষণা করেছে, বাজারে তার প্রায় অর্ধেক দামে ধান বিক্রি হচ্ছে। এ নিয়ে কৃষকের মাঝে হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। সরকারি ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কৃষকের এই ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে বা উসকানি দিয়ে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে না পারে, সে জন্য সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে।