মঙ্গলবার, 17 মে 2016 11:56

কৃষি প্রযুক্তিও হইতে হইবে জনবান্ধব

দৈনিক ইত্তেফাক || দেশের ক্রমবর্ধমান বিপুল জনসংখ্যার আবাসনসহ নানা প্রয়োজন মিটাইতে প্রতি বছর এক শতাংশ হারে আবাদি জমি হ্রাস পাইতেছে। স্বল্প  আয়তন ও বিপুল জনসংখ্যার দেশের জন্য ইহা এক উদ্বেগজনক সংবাদ। এই তথ্য জানা গিয়াছে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘কমপ্যাক্ট টাউনশিপ: সমন্বিত নগর ও গ্রামীণ উন্নয়ন পরিকল্পনা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে। আবাদি জমি কমিয়া যাওয়ার সমস্যা সমাধানে সেমিনারের মূল প্রবন্ধে কম্প্যাক্ট টাউনশিপ ধারণাটির প্রস্তাব করা হয়। কম্প্যাক্ট টাউনশিপ বলিতে আবাসন, হাসপাতাল, বিদ্যালয়, বাজার, গ্রামীণ কল-কারখানা ও স্থানীয় প্রশাসন সমৃদ্ধ একটি নাগরিক ইউনিটকে বোঝায় যেইখানে ২০ হাজার মানুষের জন্য মৌলিক সেবাসমূহ নিশ্চিত করা হইবে। কম্প্যাক্ট টাউনশিপ আবাদি জমি হ্রাসের উদ্বেগের পাশাপাশি নাগরিক আবাসনের দিকে বেশি গুরুত্ব দিয়া থাকে।

ইহা গেল ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর উন্নত আবাসনের এক রূপরেখার কথা। কিন্তু সেই ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর মুখে খাদ্যও তো তুলিয়া দিতে হইবে। এইদিকে আবাদি জমির আয়তন যেই হারে কমিতেছে, তাহাতে সেই মৌলিক চাহিদাটি কীভাবে পূরণ হইবে? উপায় একটি আছে, তাহা হইল উত্পাদন বৃদ্ধি। বস্তুত সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে কৃষিতে উত্পাদন বৃদ্ধি পাইয়াছে, পূর্বের তুলনায় মানুষ বেশি পরিমাণেই খাদ্য গ্রহণ করিতেছে। কিন্তু সকল ক্ষেত্রেই জনস্বাস্থ্যের জন্য ইহা শুভকর হইতেছে, তাহা বলা যাইবে না। কারণ উচ্চফলনশীল ফসল ফলাইতে গিয়া কিংবা ফল-ফসল দ্রুত বর্ধনে অনেক ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হইতেছে, যাহা মানুষের দেহে প্রবেশ করিতেছে। জনস্বাস্থ্যের এই দিকটি আমাদের গুরুত্ব দিয়া বিবেচনা করিতে হইবে। খাদ্য নিরাপত্তার অন্তত দুইটি প্রধান দিক রহিয়াছে—একটি হইল সকল মানুষের জন্য খাদ্য সুনিশ্চিত করিতে হইবে, অন্যটি হইল মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য সুলভ করিতে হইবে। ফল-সব্জি-মত্স্য ইত্যাদিতে ফরমালিন কিংবা কার্বাইডের ব্যবহার সার্বিকভাবে জনস্বাস্থ্যকে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ফেলিয়া দিতেছে।

আবাদি জমি কমিয়া যাইবার পিছনে অপরিকল্পিতভাবে নগরের সম্প্রসারণ দায়ী। অনেকসময় শিল্পায়ন ও অন্যান্য বৃহত্ প্রকল্পের কারণেও আবাদি জমি অধিগ্রহণ করা হইয়া থাকে। জনগণের দিক হইতে প্রায়শই প্রতিরোধও দেখা যায়। ফুলবাড়ি হইতে বাঁশখালি নানান ক্ষেত্রে আবাদি জমিকে রক্ষা করিবার জন্যই জনগণ বৃহত্ প্রকল্পগুলিকে বাধা দিয়া থাকে। এইদিকে উন্নয়ন প্রকল্পগুলি বাস্তবায়নও হওয়া দরকার। তাই এইক্ষেত্রে সমন্বয় হওয়া দরকার। আবাদি জমিকে ্বৃহত্ প্রকল্পের স্থান নির্বাচন করিবার পূর্বে বহু ভাবনার প্রয়োজন রহিয়াছে। আবাসনের ক্ষেত্রে যেমন কম্প্যাক্ট টাউনশিপের ধারণা তেমনি আবাদি জমির উপর চাপ কমাইবার ক্ষেত্রে পরিবেশ ও জনবান্ধব তথা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নহে, এমন কৃষি প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও প্রয়োগ জরুরি। এইক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নীতি ও আইন প্রণয়ন এবং তাহা বাস্তবায়ন প্রয়োজন।