মঙ্গলবার, 23 ফেব্রুয়ারী 2016 13:24

ক্লাইমেট চেঞ্জ রেজিলিয়েন্ট ফান্ডে ১৮৯ মিলিয়ন ডলার বিদেশি অনুদান এসেছে

সংসদে প্রশ্নোত্তরে পরিবেশ ও বন মন্ত্রী বনভূমি রক্ষায় জিরো টলারেন্স:বন উপমন্ত্রী

দৈনিক ইত্তেফাক || পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন, ক্লাইমেট চেঞ্জ রেজিলিয়েন্ট ফান্ডে (বিসিসিআরএফ) এ পর্যন্ত ১৮৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আন্তর্জাতিক অনুদান বা সাহায্য পাওয়া গেছে। গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরে চট্টগ্রাম-১১ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য এম. আবদুল লতিফের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা জানান।
একই প্রশ্নের জবাবে পরিবেশ মন্ত্রী আরও জানান, জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডে বরাদ্দকৃত (৩ হাজার কোটি টাকা) অর্থ হতে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট আইন অনুযায়ী ৬৬% ও ৩৪ % স্থায়ী আমানত হতে প্রাপ্ত সুদের অর্থ দ্বারা সরকারি পর্যায়ে ৩৩৪টি এবং বেসরকারি পর্যায়ে ৬৩টি (এনজিও) প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এরমধ্যে এ পর্যন্ত ৮৬টি সরকারি এবং ৫৭টি বেসরকারি প্রকল্পের কার্যক্রম শেষ হয়েছে।
পঞ্চগড়-২ আসনের নূরুল ইসলাম সুজনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু জানান, ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে ইপ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (ইটিপি) স্থাপনযোগ্য ১ হাজার ৪৮২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ইতোমধ্যে ১ হাজার ১১৩টি শিল্প প্রতিষ্ঠানে ইটিপি স্থাপিত হয়েছে। সিলেট-২ আসনের জাতীয় পার্টির (জাপা) ইয়াহ্ইয়া চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী সংসদকে জানান, পরিবেশ দূষণকারী শিল্প প্রতিষ্ঠানে যথাযথ পরিবেশগত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইটিপি কিংবা এটিপি (এয়ার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট) স্থাপন ছাড়া পরিবেশগত ছাড়পত্র দেয়া হয় না। কুমিল্লা-১ আসনের আওয়ামী লীগের সুবিদ আলী ভূঁইয়ার প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ইটিপি ছাড়া তরল বর্জ্য দূষণকারী নতুন কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রদান কিংবা বিদ্যমান কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠানের ছাড়পত্র নবায়ন করা হচ্ছে না।

হবিগঞ্জ-১ আসনের জাপার আব্দুল মুনিম চৌধুরীর লিখিত প্রশ্নের জবাবে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু জানান, প্রচলিত বন আইন ১৯২৭ (সংশোধিত ২০০০) অনুযায়ী দেশের বনভূমি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে লিজ দেয়ার বিধান নেই। বনভূমি লিজ দেয়ার কোনো পরিকল্পনাও সরকারের আপাতত নেই। সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য ফিরোজা বেগম চিনুর প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সরকার পার্বত্য এলাকার ৮০ শতাংশ বৃক্ষাচ্ছাদিত রাখার পরিকল্পনা নিয়েছে। স্থানীয় জনগণকে সামাজিক বনায়নের সাথে সম্পৃক্ত করে পার্বত্য এলাকার বন সংরক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পিরোজপুর-৩ আসনের স্বতন্ত্র সদস্য রুস্তম আলী ফরাজীর প্রশ্নের জবাবে পরিবেশমন্ত্রী জানান, জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন সরকারি সংস্থা কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন/বাস্তবায়িত ৭৪টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।

বনভূমি রক্ষায় জিরো টলারেন্স :বন উপমন্ত্রী

পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর অনুপস্থিতিতে গতকাল সংসদে একটি লিখিত ও তিনটি সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দেন এই মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব। এসময় সিলেট-৫ আসনের জাপার সেলিম উদ্দিনের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে উপমন্ত্রী বলেন, বনভূমি ও বনের সম্পদ রক্ষায় বর্তমান সরকারের নীতি হচ্ছে জিরো টলারেন্স। ইতোমধ্যে বন থেকে চুরি হওয়া অনেক কাঠ ও গাছ জব্দ করা হয়েছে। তিনি বলেন, বন বিভাগের যেসব ভূমি যারা অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন, তারা যতই শক্তিশালী হোন এবং তাদের পেছনে যেই থাকুন না কেন-সেসব ভূমি উদ্ধার করা হবে।
সেলিম উদ্দিনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে জ্যাকব সংসদকে জানান, বর্তমানে অতীতে যে কোনো সময়ের চেয়ে বনাঞ্চলে সার্বক্ষণিক টহল প্রদানের মাধ্যমে বনরক্ষার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। বনাঞ্চল ও বন বাগান রক্ষার কাজে উপকারভোগী ও স্থানীয় জনসাধারণকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এর ফলে বনাঞ্চল ও বন বাগানে অবৈধভাবে গাছ কর্তন ও গাছ পাচার প্রবণতা অনেকাংশে কমে এসেছে।