বৃহস্পতিবার, 22 সেপ্টেম্বর 2016 15:24

বিদেশি মাল্টার প্রতিদ্বন্দ্বী বারি মাল্টা

প্রথম আলো || গাছে গাছে ঝুলছে মাল্টা। পরিপক্ব ফল গাছ থেকে ছিঁড়ে ঝুড়িতে রাখছিলেন চাষি নিটল চাকমা। পাঁচ একর জমিতে প্রায় ১১০০ গাছ লাগিয়েছেন তিনি। অর্ধেকের মতো গাছে এবার ফল এসেছে। বাগানেই মাল্টা বিক্রি হয়ে যাওয়ায় খুশি তিনি। সম্প্রতি খাগড়াছড়ির গোমড়াঘাট এলাকার মাল্টাচাষি নিটল চাকমার বাগানে গিয়ে দেখা গেল এই দৃশ্য। অক্টোবর থেকে মাল্টা পাকতে শুরু করে। তবে অধিকাংশ চাষিই পুরো পাকার আগেই মাল্টার ফলন তোলা শুরু করেন। নিটলও সেটাই করছিলেন। স্বাদ পরখ করার জন্য সদ্য ছিড়ে আনা একটি মাল্টা কেটে এগিয়ে দিলেন। মুখে দিতেই মিষ্টি স্বাদে মুখ ভরে উঠল। নিটলের কথা, দেশের বাজারে অস্ট্রেলিয়াসহ বিদেশের মাল্টার সঙ্গে এখন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে খাগড়াছড়ির এই মাল্টা।

আকারে কমলার চেয়ে বড়, মিষ্টি এই মাল্টার জাত ২০০৪ সালে উদ্ভাবন করেছে খাগড়াছড়ি পাহাড়ি কৃষি গবেষণাকেন্দ্র। পুরো নাম বারি মাল্টা-১। খাগড়াছড়ি কৃষি-সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালে উদ্ভাবনের পর গত এক যুগে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে জাতটি। বারি মাল্টার চাষ ক্রমে বিস্তৃত হচ্ছে পাহাড়ি ভূমিতেও। চারার চাহিদাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত দুই বছরে খাগড়াছড়ি পাহাড়ি গবেষণাকেন্দ্র কৃষকদের মাঝে প্রায় ১২ হাজার চারা সরবরাহ করেছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাড়াও খুলনা, সাতক্ষীরা, রংপুর, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেটেও এই জাতের চাষ হচ্ছে।

খাগড়াছড়িসহ তিন পার্বত্য জেলায় মাল্টার উৎপাদন বাড়ছে। জেলার কৃষি অফিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে খাগড়াছড়ি জেলায় মাল্টার উৎপাদন বেড়েছে ৩৮৪ টন। ২০১৪-১৫ সালে জেলার ৯০ হেক্টর জমিতে মাল্টার আবাদ হয়েছিল। উৎপাদন হয়েছিল ৫৫৩ টন। অপরদিকে, ২০১৫-১৬ সালে ১৭৯ হেক্টর জমিতে মাল্টার উৎপাদন হয় ৯৩৭ টন। আবাদে খরচ কম লাগায় এবং স্বল্প সময়ে ফলন হয় বলে এখন অনেক চাষি বারি মাল্টা চাষের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন। দেশি এই মাল্টা খুচরা বাজারে বিক্রিও হচ্ছে। মাল্টা ব্যবসায়ী রিপন ত্রিপুরা ও অগ্যজাই মারমা বলেন, ‘আমরা জেলার বিভিন্ন বাগানে গিয়ে প্রতি কেজি ৩০-৬০ টাকায় কিনে আনি। এরপর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি বিক্রি করি ৬০-৮০ টাকায়।’

খাগড়াছড়ি কৃষি-সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক তরুণ ভট্টাচার্য বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের মাটি ও জলবায়ু বারি মাল্টা-১ চাষের জন্য খুবই উপযোগী। বারি মাল্টা লাগানোর মাত্র চার বছরের মাথায় ফলন আসে। একটি গাছ থেকে টানা ২০ বছর পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়। মাল্টা চাষের জন্য জায়গাও বেশি প্রয়োজন হয় না। অন্য ফলের মিশ্র বাগানেও মাল্টা করা যায়। বর্তমানে বিদেশ থেকে যেসব মাল্টা আমদানি হচ্ছে তা দেখতে সুন্দর হলেও পার্বত্য চট্টগ্রামে উৎপাদিত মাল্টা তার চেয়ে সুস্বাদু।

খাগড়াছড়ি পাহাড়ি কৃষি গবেষণাকেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মনোরঞ্জন ধর বলেন, এই কেন্দ্রের উদ্ভাবিত বারি মাল্টা-১ এখন সারা দেশেই চাষ হচ্ছে। বিশেষ করে সাতক্ষীরা, খুলনা, রংপুর দিনাজপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও পার্বত্য চট্টগ্রামে এই মাল্টা ব্যাপক পরিসরে চাষ হচ্ছে।