সোমবার, 09 ফেব্রুয়ারী 2015 12:34

ভূমি জোনিংয়ের আওতায় আসছে পাহাড়ি অঞ্চল

বাংলানিউজ২৪.কম ।। দেশের সার্বিক ভূমি ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা পাওয়া লক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামকে ভূমি জোনিংয়ের আওতায় আনা হবে। এতে করে প্রথমবারের মতো ভূমি জোনিংয়ের আওতায় আসছে দেশের পাহাড়ি এলাকা।

পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি এলাকাকে অন্তর্ভূক্তির জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে। 

ভূমি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (উন্নয়ন) পূণ্যব্রত চৌধুরি বাংলানিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি বলেন, দেশের ৪০টি জেলার ৩০১টি উপজেলায় সমতলে ভূমি জোনিংয়ের কাজ চলমান রয়েছে।

ভূমি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল দেশের মোট আয়তনের ১০ শতাংশ হলেও বিভিন্ন কারণে এখন পর্যন্ত এ অঞ্চলকে ভূমি জোনিং কার্যক্রমের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। এখন পাহাড়ি অঞ্চলকে ভূমি জোনিংয়ের আওতায় আনা হচ্ছে।

পূণ্যব্রত চৌধুরী বলেন, ‘জাতীয় ভূমি জোনিং’ প্রকল্পের আওতায় দেশব্যাপী কার্যক্রম আরো সম্প্রসারিত করা হবে।

পর্যায়ক্রমে প্রকল্পের ব্যয় ও সময় বৃদ্ধি করে দেশের সকল পাহাড়ি অঞ্চলকে প্রকল্পের আওতায় আনা হবে। 

এতে করে প্রকল্পের দুই বছর মেয়াদসহ প্রায় ৯ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ করা হবে বলে তিনি জানান। 

ভূমি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, পরিকল্পনা মাফিক কৃষি ভূমি ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, ভূমির সুরক্ষা, প্রতিটি উপজেলায় ভূমি জোনিং প্রতিবেদন ও ভূমি জোনিং ম্যাপ তৈরি করাই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য।

প্রথমে ৪৩টি জেলায় ১৯ কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি শুরু হয়েছিল। এর মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০১২ সালের জুলাই থেকে তিন বছর সময় পর্যন্ত। কিন্তু ভূমি জোনিং কাজে পাহাড়ি অঞ্চলকে অন্তর্ভূক্ত করার লক্ষ্যে প্রায় ৯ কোটি টাকা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। 

অপরদিকে সময় নির্ধারণ করা হয়েছে আরো দুই বছর অর্থ্যাৎ ২০১৭ সালের  জুন নাগাদ।

বর্তমানে প্রকল্পটি ঢাকা বিভাগের, ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, নেত্রকোণা, জামালপুর, কিশোরগঞ্জ, শেরপুর, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও রাজবাড়ী জেলায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।

অপরদিকে রংপুর বিভাগের রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমরিহাট, নীলফামারী, দিনাজপুর, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। 

সিলেট বিভাগের সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ এবং খুলনা বিভাগের মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা জেলায় বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগের কুমিল্লা, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবানে বাস্তবায়িত হচ্ছে। রাজশাহী বিভাগের বগুড়া, জয়পুরহাট, রাজশাহী, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা ও সিরাজগঞ্জে বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ করার সিদ্ধান্ত হচ্ছে। 

এর মধ্যে অন্যতম ইউনিয়ন পর্যায়ে ভূমি ব্যবহার, কৃষি, মৎস, বন, আর্থ-সামাজিক ও পরিবেশগত অবস্থার উপর সমীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা।

ইউনিয়ন ভিত্তিক ভূমি ব্যবহার ম্যাপের ওপর ভিত্তি করে উপজেলা ভূমি জোনিং প্রতিবেদন ও ম্যাপ তৈরি করা। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সচেতনামূলক নানা কার্যক্রম ও সেমিনার করা হবে।

অপরদিকে প্রকল্পের আওতায় ইউনিয়ন পর্যায়ে সংগৃহিত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ এবং স্যাটেলাইট ইমেজ ব্যবহার করে ইউনিয়ন ভিত্তিক ম্যাপ তৈরি করা হবে। 

প্রকল্পের আওতায় ভূমিকে তার গুণাগুণ ও বৈশিষ্ট অনুযায়ী বিভিন্ন ক্ষেত্র যেমন, কৃষি, পশু সম্পদ, বন, শিল্পাঞ্চল, পর্যটন এবং প্রাকৃতিক জীব-বৈচিত্র ইত্যাদি ক্ষেত্রে পরিকল্পিত ও সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং ভূমি ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন স্বার্থের দ্বন্দ্ব নিরসন করা হবে। প্রাণী ,উদ্ভিদের সংরক্ষণ ও বংশ বৃদ্ধি নিশ্চিত করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশ ও কৃষ্টিগত স্থাপনাসমূহও সংরক্ষণ করা যাবে। 

ভূমি মন্ত্রণালয় সূত্রে আরো জানা গেছে, নতুন প্রকল্প এলাকা ও নতুন কাযর্ক্রম অন্তর্ভূক্তির কারণে প্রকল্পের আওতায় অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ করা হবে। 

উপজাতি অধ্যুষিত পার্বত্য অঞ্চলে কাজের সুবিধার্থে ৬ জন উপজাতি বাসিন্দা রিচার্স অ্যাসিসটেন্ট  হিসেবে নিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রকল্পটি জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সিস্টেম (জিআইএস)নির্ভর বিধায় পার্বত্য এলাকায় কাজের অভিজ্ঞ কর্মী নিয়োগ এবং এটি বিশ্লেষণ করতে সিনিয়র বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করা হবে।

প্রকল্পের আওতায় পাহাড়ি অঞ্চলেও প্রতিবেদন ও ম্যাপ তৈরির জন্য মাঠ পর্যায় থেকে এবং ভূ-উপগ্রহ চিত্র সংগ্রহ বিশ্লেষণ করে তথ্যাদি সংগ্রহ করা হবে। 

এতে করে দেশবাসীকে পাহাড়ি ভূমির ব্যবহার সম্পর্কে সার্বিক ধারণা দেওয়া যাবে।