রবিবার, 10 মে 2015 12:00

প্রতিদিন অকৃষি খাতে যাচ্ছে ২০৯৬ বিঘা জমি!

বাংলা এক্সপ্রেস ।। বাণিজ্যিক কারণে দেশে প্রতিদিন গড়ে দুই হাজার ৯৬ বিঘা বা ৬৯২ একর কৃষি জমি হারিয়ে যাচ্ছে। রূপান্তরিত জমির পুরোটাই অকৃষি খাতে ব্যবহৃত হচ্ছে। জলাশয় ভরাট করে প্রতিদিন মোট কৃষি জমি কমছে ৯৬ বিঘা। তামাক চাষের কারণে প্রতিদিন নয় হাজার একর কৃষি জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে। এভাবে কৃষি জমি কমতে থাকলে দেশের ৬৮ শতাংশ মানুষের জীবন-জীবিকা চরম হুমকির সম্মুখীন হবে। পরিসংখ্যান বলছে, গত ১১ বছরে মোট ২৬ লাখ ৫৫ হাজার ৭৩১ একর কৃষি জমি অকৃষি খাতে চলে গেছে। ১১ জেলায় গবেষণায় দেখা গেছে, কক্সবাজার, কুষ্টিয়া ও মানিকগঞ্জ জেলাতে কৃষি জমির বাণিজ্যিক ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। কৃষি জমি নিয়ে সম্প্রতি একটি বেসরকারী সংস্থার গবেষণায় এ চিত্র উঠে এসেছে। এমন বাস্তবতায় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপরিকল্পিত নগরায়ন ও শিল্পায়ন জমি কমার মূল কারণ। দ্রুত ভূমি রক্ষায় সমন্বিত নীতিমালা গ্রহণ না করলে সামনে ভয়াবহ বিপর্যয় অপেক্ষা করছে। আগামী ১০ বছরের মধ্যে বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে কৃষি জমি। তখন চরম খাদ্য সঙ্কটের মুখে পড়বে বাংলাদেশ। কৃষি জমি রক্ষায় তামাকের উৎপাদন বন্ধ ও এ খাতে বিদেশী বিনিয়োগ কমানোরও পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান এ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম এ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এক গবেষণায় বলেছে, বাংলাদেশে মোট ভূমির পরিমাণ প্রায় ১৪ দশমিক ৪ মিলিয়ন হেক্টর। যার প্রায় ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ জুড়ে বনভূমি। ২০ দশমিক ১ শতাংশে স্থায়ী জলাধার, ঘরবাড়ি, শিল্প-কারখানা, রাস্তাঘাট ইত্যাদি, অবশিষ্ট ৬৬ দশমিক ৬ শতাংশ জমি কৃষি কাজের জন্য ব্যবহার করা হয়। বাস্তবতা হলো কৃষি জমির পরিমাণ কমছে আশঙ্কাজনক হারে। জমি কমায় আগামী ১০ বছরেই আমাদের ভাতে মরার আশঙ্কা হয়ে দেখা দিতে পারে। গবেষণায় বলা হয়, দেশে ২০০৩ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ১১ বছরে মোট ২৬ লাখ ৫৫ হাজার ৭৩১ একর বা ৮০ লাখ ৩৩ হাজার বিঘা কৃষি জমি অকৃষি খাতে চলে গেছে। এই হিসেবে বছরে এ রূপান্তরের পরিমাণ ৭ লাখ ৩০ হাজার ৩২৬ বিঘা জমি। আর প্রতিদিন কমছে দুই হাজার বিঘা কৃষি জমি। জলাশয় ভরাট করে প্রতিদিন মোট কৃষি জমি কমছে ৯৬ বিঘা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিপুল পরিমাণ এ কৃষি জমির ৮০ শতাংশই বাড়ি নির্মাণের কাজে ব্যবহৃত হয়েছে। দোকানপাট নির্মাণে ব্যবহৃত হচ্ছে ২ দশমিক ৬ শতাংশ আর অন্যান্য কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ। অন্যান্য কাজের মধ্যে রয়েছে কারখানা স্থাপন, তামাক ও চিংড়ি চাষ, ইটভাঁটি নির্মাণ প্রভৃতি। সংস্থার পক্ষ থেকে দেশের ১১ জেলায় ৬৬ গ্রামের ৯৯০ পরিবারের ওপর এই গবেষণা জরিপ পরিচালিত হয়। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার, কুষ্টিয়া ও মানিকগঞ্জ জেলাতে কৃষি জমির বাণিজ্যিক ব্যবহার সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। রাজশাহী, নাটোর, রাঙ্গামাটি ও হবিগঞ্জ জেলায় বাণিজ্যিকভাবে কৃষি জমি ব্যবহারে মধ্যম অবস্থানে রয়েছে। আর কৃষি জমির বাণিজ্যিক ব্যবহার অপেক্ষাকৃত কম হয় সাতক্ষীরা, বরিশাল, নারায়ণগঞ্জ এবং নেত্রকোনায়।