মঙ্গলবার, 21 জুন 2016 10:41

কৃষি জমি সুরক্ষায় ১০ দফা প্রস্তাবনা

দৈনিক ইনকিলাব ||খসড়া কৃষি জমি সুরক্ষা ও ভ‚মি ব্যবহার আইন-২০১৫-তে সংযোজনের জন্য ১০ দফা প্রস্তাবনা দিয়েছে গবেষণা ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান ইনসিডিন বাংলাদেশ। ‘খসড়া কৃষি জমি সুরক্ষা ও ভূমি ব্যবহার আইন-২০১৫ : নাগরিক প্রস্তাবনা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ প্রস্তাবনা তুলে ধরে ইনসিডিন বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এ কে এম মাসুদ আলী। গতকাল (রোববার) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনী মিলনায়তনে সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। মাসুদ আলী বলেন, ইনসিডিন বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে কৃষকবান্ধব ভূমি সুরক্ষা ও ব্যবহার আইনের বিষয়ে নাগরিক প্রস্তাবনা প্রস্তুতে কাজ করে আসছে। বর্তমান প্রস্তাবনাটি ২০১৪ সাল থেকে কৃষক, কৃষি বিশেষজ্ঞ ও কৃষক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় ও তথ্যসূত্র বিশেষণের মাধ্যমে ইনসিডিন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উপস্থাপন করা হচ্ছে। প্রস্তাবনাগুলো হচ্ছে : ১. এই আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে সাংবিধানিক কর্তব্যের বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা। ২. প্রস্তাবিত আইনের সংজ্ঞা অংশে নতুন করে জেগে ওঠা জমিকে কৃষিজমি হিসেবে বিবেচনা করা এবং বন-সন্নিহিত অঞ্চল বাদে অন্যান্য এলাকায় জেগে ওঠা ভূমির কমপক্ষে ৮০ শতাংশ কৃষি জমির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা। ৩. এই আইনে খাস কৃষি জমিতে ভূমিহীনের অধিকার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে বিদ্যমান নীতির সঙ্গে সমন্বিত করা যাতে মুক্তিযোদ্ধাদের পাশাপাশি নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষিত হয়। ৪. প্রস্তাবিত আইনের প্রারম্ভিক আলোচনায় টিলা ও পাহাড়কে আলাদাভাবে কৃষি জমির অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। এ বিষয়টির পরিমার্জন প্রয়োজন। এক্ষেত্রে কৃষিবৈচিত্র্য সুরক্ষা, নৃগোষ্ঠীগত সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, খাদ্য সার্বভৌমত্ব ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। ৫. প্রস্তাবিত আইনের সংজ্ঞায় ফসলি জমির আওতায় চা উৎপাদনে ব্যবহৃত ভূমি, ব্যক্তিগত বনভূমি, ফল বাগান সৃজনে ব্যবহৃত ভূমি প্রভৃতি উল্লেখ থাকলেও একই আইনের ৪নং ধারার ২ (ক) অংশে কৃষি জমি ব্যতীত অন্যান্য জমি হিসেবে চা, ফল, রাবার ও বিশেষ ধরনের বাগানের কথা উল্লেখিত হয়েছে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া এ সব জমিতে কোন প্রকার ভূ-প্রকৃতিগত পরিবর্তন আনা যাবে না বা ভরাট করে বা বিনষ্ট করে আবাসিক এলাকা স্থাপন করা যাবে না বলা হলেও এই জমিগুলো কৃষিজমি এবং কৃষি বহির্ভূত জমি উভয় ক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় অনুমোদনের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষ নির্ধারণে সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। বিতর্ক নিরসনকল্পে এই সকল জমিগুলো কৃষি জমির আওতাভুক্ত করে একক কর্তৃপক্ষের কর্তৃত্বে ন্যস্ত করাই সমীচীন হবে। ৬. ৪নং ধারা ১(খ)-এ অনুযায়ী আমরা কৃষিজমি সুরক্ষার যে সংজ্ঞা পাই তাতে রাসায়নিক ও অন্যান্য দূষণজনিত কারণে কৃষি জমির সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়নি। এটি বিশেষভাবে গুরুত্ব পাওয়ার দাবিদার। ৭. উন্নয়ন প্রকল্প ও শিল্প কলকারখানা, আবাসন প্রভূতি অকৃষি প্রকল্পের ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র যেমন বাধ্যতামূলক, তেমনি কৃষি ও ফসলী জমির কোন ক্ষতি হচ্ছে না, এমন ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক করার প্রয়োজন রয়েছে। ৮. প্রস্তাবিত আইনের ধারা-১২ অপরাধ, বিচার ও দÐের বিধান তুলে ধরেছে। কিন্তু দÐের পাশাপাশি প্রণোদনা প্রদানের আইনি বিধানও জরুরি। ৯. খসড়া আইনের ধারা-৭/৩ ভূমি জোনিং’এর যে ক্ষেত্রসমূহের প্রস্তাব করেছে তার আওতায় পরিবেশগত বিপন্ন এলাকাকে (ঞ) চিহ্নিত করা হয়েছে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিঘাতসমূহ মোকাবেলায় কৃষিজমি সুরক্ষা ব্যবস্থাকে ভবিষ্যতদর্শী হতে হবে (যেমন হইড্রোফনিক্স এলাকা চিহ্নিতকরণ) এবং আপদকালীন সুরক্ষা ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ১০. পরিশেষে আইনটির শিরোনামে ‘ভূমি ব্যবহার’-এর বদলে ‘টেকসই ভূমি ব্যবহার’ অভিধা প্রস্তাব করা হচ্ছে এবং বর্তমান ভূমি ব্যবহার যেন আগামী প্রজন্মের কৃষি স্বক্ষমতা ব্যাহত না করে- এ বিবেচনায়; ধারা-২’এ তা সংজ্ঞায়িত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন ইনসিডিন বাংলাদেশের অ্যাডভোকেসী চিফ নাসিমুল আহসান, নীতি বিশ্লেষক অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খান ও মন্টি দেওয়ান প্রমুখ।