সোমবার, 22 অগাস্ট 2016 13:13

বগুড়ায় আগাম সবজি চাষ

দৈনিক জনকন্ঠ || বগুড়া অঞ্চলে শীতের আগাম সবজি চাষ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে উন্নতমানের সবজি বীজ থেকে চারা উৎপাদন করে কৃষকদের কাছে বিক্রি হচ্ছে। বগুড়ার চারা দেশের অন্যান্য এলাকার সবজি চাষীরা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। সবজি উৎপাদন ও চারা তৈরিতে বগুড়া অনেক এগিয়ে গেছে। এ সময়ে কৃষকরা চারা কিনে নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন। ফুলকপি, পাতাকপি, টমেটো, মরিচ, বেগুন, ঢেঁড়শ, পটল, ঝিঙ্গে, ওল, চিচিঙ্গার চারা রোপণ শুরু হয়েছে। বর্তমানে ভর বছর কোন না কোন সবজি আবাদ হচ্ছে। বগুড়ার সবজি এখন বিদেশেও রফতানি হচ্ছে।

বগুড়ার দক্ষিণে শাজাহানপুর উপজেলার শাহনগর এবং উত্তরে মহাস্থানগড় এলাকা সবজি চারা উৎপাদনে বড় ভূমিকা রাখছে। এ এলাকার কৃষক কেউ শুধু চারা উৎপাদন করছে। সেই চারা কিনে নিয়ে যাচ্ছে সবজি চাষের কৃষক। এতে সুবিধা হলোÑ সবজি উৎপাদক কৃষকের বীজ থেকে চারা তৈরির সময় বেঁচে যাচ্ছে। তারা সরাসরি চারা কিনে জমিতে রোপণ করছেন।

শাজাহানপুরের শাহনগরের চারা উৎপাদক কৃষক আব্দুল গফুর জানালেন, বাজার থেকে উন্নতজাতের দেশী ও বিদেশী বীজ কিনে জমিতে বপন করে চারা তৈরি করেন। তারপর সেই চারা বিক্রি করেন কৃষকদের মধ্যে। বগুড়া ছাড়াও আশপাশের নওগাঁ, জয়পুরহাট, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, নাটোর এলাকার কৃষক এই বীজ কিনে নিয়ে যান। মহাস্থানগড়ের আব্দুস সালামও একই কথা বললেন।

কৃষক রফিকুল ইসলাম বললেন, বর্তমানে সবজি আবাদে বেশি লাভ হচ্ছে। মাঝে মধ্যে দাম পড়ে গেলে লাভ কমে যায়। তবে সবজি রফতানির এজেন্টরা এ সবজি কিনলে কৃষক লাভের মুখ দেখে। বগুড়া-রংপুর জাতীয় মহাসড়কের মহাস্থান থেকে চন্ডিহারা পর্যন্ত এলাকায় পথের দুই ধারে প্রতিদিন সবজির পাইকারি বাজার বসে। ঢাকা চট্টগ্রামের বড় ব্যবসায়ী ও রফতানিকারকগণ ট্রাক ও এজেন্ট পাঠিয়ে বগুড়া অঞ্চল থেকে সবজি কিনে নিয়ে যায়। একজন এজেন্ট বললেন, ঢাকার সাভারে সবজি রাখার বিশেষায়িত হিমাগার আছে। সেখান থেকে এয়ার ফ্রেইটেও রফতানি হয়।