মঙ্গলবার, 27 সেপ্টেম্বর 2016 11:09

গঙ্গাচড়ার মাঠে মাঠে ধান কৃষকের মুখে হাসি

দৈনিক ইত্তেফাক || মঙ্গার ধানে পাক ধরেছে। তিন/চার দিনের মধ্যে ধান কাটবে এ উপজেলার কৃষক। রংপুরের গঙ্গাচড়ায় বাতাসে দুলছে ধানের শিষ। মাঠে মাঠে আগাম আমন ধানের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তাইতো কৃষকের মুখে ফুটছে সোনালী হাসি। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ক্ষেতের মাঝখানে দোল খাচ্ছে মাথা হেলান আমন ধানের শিষ। কোনো কোনো ধানে লেগেছে রং। এই অপরূপ সৌন্দর্যে কৃষকের বুকে যেন অপার আনন্দ। আর কদিন পরে ঘরে ওঠবে সোনালী ধান। উপজেলার হাবু, বালারঘাট, কিসামত হাবু, চেংমারী, মান্দ্রাইন, কুঠিরপাড়, বেতগাড়ী, মর্নেয়া এলাকা ঘুরে দেখা গেছে এ চিত্র। কেউবা লাগিয়েছে বিআর-৩৩, কেউ  বিনা-৭, কেউবা লাগিয়েছে হাইব্রিড জাতের ধান। মর্নেয়া ইউনিয়নের জমচওড়া এলাকার  কৃষক  আবুল বাশার এক একর  জমিতে বিনা-৭, বেতগাড়ী ইউনিয়নে আব্দুল ওহাব দেড় একর জমিতে হাইব্রিড, আলদাদপুর গ্রামের জ্যোতি রায় ৫০ শতক জমিতে হাইব্রিড লাগিয়েছেন। তাছাড়া হাবু কুটিরপাড় গ্রামের মনোয়ারুল ৪০ শতক জমিতে ব্রি ধান- ৬২ লাগিয়েছেন। ফলন ভালোই হবে বলে তারা আশা করছেন। কৃষক আবুল বাশার বলেন, তিন/চারদিনের মধ্যে ধান কাটবেন।  ধান কাটার পর ঔ জমিতে আগাম আলু লাগাবেন। এতে লাভ ভালো হবে। তিনি আরও বলেন, বেতগাড়ি এলাকার কৃষক আব্দুল ওহাব বলেন, পাখির অত্যাচারে আর বাঁচিনা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পাখি তাড়াতে হয়। তিনিও ধান কাটার পর আগাম আলু করবেন বলে জানান।

রংপুরের অঞ্চলে আশ্বিন-কার্তিক মাস অভাবের মাস। এ সময় অনেকের ঘরে খাবার থাকে না। থাকে না শ্রমিকের মজুরি। হাজার হাজার শ্রমিক ও কর্মজীবী মানুষ বেকার হয়ে পড়ে। আশ্বিন-কার্তিক মাস কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনষ্টিটিউট বিআর- ৩৩, ব্রিধান- ৪৮, ৫৬, ৫৭ ও ৬২ জাতের স্বল্পমেয়াদী জাত আবিষ্কার করেন। এসব ধানের জীবনকাল ১০৫-১১০ দিন। যেখানে অন্যান্য জাতের জীবনকাল ১৪০-১৫০ দিন। এছাড়া কৃষকরা আমন মৌসুমেও হাইব্রিড ধানের চাষ করছে। অনেকে  এই ধানকে বলে মঙ্গার ধান। রংপুর অঞ্চলের কৃষকরা এখন অনেক সচেতন। আগাম আমন, আগাম আলু এবং আগাম বোরো কিংবা ভুট্টা, ডাল এই শস্য বিন্যাসকে কাজে লাগিয়ে কৃষকরা এখন অনেক অগ্রগামী। কৃষকরা জানান, আগাম ধান ওঠার পর সেখানে আগাম আলু করলে খরচ কম হবে। সাত/আট বছর আগেও কৃষকরা দীর্ঘমেয়াদী জাতের উপর নির্ভরশীল থাকতো। আঞ্চলিক ধান গবেষণা ইনষ্টিটিউট এ ব্যাপারে ব্যাপক প্রচারণা চালায়। এ কারণেই কৃষকদের মাঝে আগ্রহ বেড়ে গেছে। কৃষকরাও সুফল পাচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, কৃষকদের মাঝে আগাম ফসল উত্পাদনে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষকরা এখন অল্প খরচে বেশি লাভ করতে চায়। তাছাড়া আশ্বিন-কার্তিক মাসে ফসল উঠলে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়। কৃষকরা আগাম ধান করার পর আগাম আলু, সরিষা কিংবা ডাল জাতীয় শস্য আবাদ করতে পারবে। কৃষকরাও ফসলের ন্যায্যমূল্য পায়।