রবিবার, 06 মার্চ 2016 11:10

উপকরণের মূল্য বৃদ্ধিতে ফসল আবাদে আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষক

সংবাদ || দশমিনা উপজেলায় কৃষকরা ধান চাষের প্রতি দিন দিন আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। উৎপাদন খরচ ও কৃষি উপকরণের মূল্য বৃদ্ধির কারণেই তারা ফসলের চাষাবাদ করতে চাইছে না। কৃষকরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে ফসলের আবাদ করলেও উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় অনেকেই ফসল আবাদে অনীহা প্রকাশ করছে। উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন ছাড়াও অর্ধ শতাধিক চরাঞ্চল ফসল চাষের উপযোগী হলেও কৃষকরা চাষাবাদের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে না। গত বছরের তুলনায় চলতি বছর ফসলের আবাদ কমেছে। বর্তমান সময়ে বোরো মৌসুম হলেও সেচ সুবিধা, উৎপাদন খরচ ও কৃষিপন্যের মূল্য কম থাকলে কৃষকরা চাষাবাদের প্রতি ঝুঁকে পড়বে বলে আশা করা যায়। উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্র থেকে জানা গেছে, কৃষকরা উন্নত মানের প্রযুক্তি নির্ভর হলে উৎপাদন খরচ অনেকটা কমবে।
সূত্র আরও জানায়, প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তি সর্ম্পকে অবহিত করা, জৈব সার, বালাইনাশক ও গুটি ইউরিয়ার সঠিক ব্যবহার করা হলে ধান চাষে অনেক সাফল্য আসবে। কৃষকরা উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করলে উৎপাদন খরচ কমে আসার পাশাপাশি পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাবে। কৃষকরা জানায়, ধান চাষের পর লাভের চেয়ে লোকসানের পাল্লাই ভারি হয়ে যায়। তাদের ভাষ্য মতে, সঠিক সময়ে বৃষ্টি না হওয়া এবং কৃষি পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির কারণে তারা চাষাবাদ করতে পারছে না। বিগত মৌসুমে অসময়ে ভারী বর্ষণের কারণে ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে জমি প্রস্তুত করতে না পেরে অনেক কৃষক চাষাবাদ করতে পারেনি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছে চলতি মৌসুমে কৃষকরা আবাদ বন্ধ করে দিলে অত্র উপজেলায় ধানের উৎপাদনে বিশাল যাটতি দেখা দিবে। এদিকে চলতি বছরের বাজেটে কৃষিখাতে ভর্তুকি ও বরাদ্দ বেশি দেয়া হলেও কৃষকদের ভাগ্যের কোন উন্নতি হয়নি। কৃষকদের উন্নয়নে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলেও তা আশানুরূপ হচ্ছে না। ফলে কৃষকদের মধ্যে অনেকটা হতাশা বিরাজ করছে এবং একই সঙ্গে চাষাবাদের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।