সোমবার, 18 সেপ্টেম্বর 2017 14:57

গবাদিপশু মোটাতাজাকরণে প্লানটেইন উদ্ভিদ

বাকৃবি গবেষকের সফলতা 

সমকাল || আশির দশকে গবাদিপশু মোটাতাজাকরণে শুরু হয়েছিল গ্রোথ প্রোমোটার বা অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার। ওষুধ ব্যবহারের ফলে উৎপাদিত পশুপণ্য অর্থাৎ মাংস, দুধ ও ডিম খাওয়ার ফলে পশু থেকে মানুষে পরবর্তীতে (রেসিডিউয়াল) ক্ষতিকারক প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। সম্প্রতি পশুর মাংসের উৎপাদন বৃদ্ধিতে ঔষধি গুণসম্পম্ন প্লানটেইন উদ্ভিদ (Plantago lnceolata L.) ব্যবহারের মাধ্যমে জৈব পদ্ধতিতে গবাদিপশু মোটাতাজাকরণের সাফল্য পেয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) পশুপুষ্টি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-মামুন। সাত বছরের গবেষণাটি অ্যানিমেল জার্নালসহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণাটির জন্য তিনি পেয়েছেন জাপানের সেরা তরুণ গবেষক, ডিন ও প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ড। 

গবাদিপশু মোটাতাজাকরণ সম্পর্কে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-মামুন বলেন, বাংলাদেশে গবাদিপশু মোটাতাজাকরণে খাবারের পাশাপাশি নানা ধরনের অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার রয়েছে। এটি এনজাইমের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে এবং বিভিম্নভাবে পশুর মেটাবলিজমের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি করে থাকে। কিন্তু এসব সিনথেটিক অ্যান্টিবায়োটিক গ্রোথ প্রোমোটার প্রাণীদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা মারাত্মকভাবে হ্রাস করে। এসব ওষুধ ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদিত পশুপণ্য অর্থাৎ মাংস, দুধ ও ডিম খাওয়ার ফলে মানুষের মাঝেও ব্যবহার পরবর্তী (রেসিডিউয়াল) ক্ষতিকারক প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। হার্ট ডিজিস, ডায়াবেটিস, অটিজমসহ বিভিম্ন ভয়াবহ রোগের কারণ এটি। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নসহ উম্নত বিশ্বে ২০০৬-এর ১ জানুয়ারি থেকে পশুখাদ্যের ব্যবহার বন্ধ করা হয়। বিজ্ঞানীরা মেতে ওঠেন গ্রোথ প্রোমোটারের বিকল্প পশুখাদ্য উদ্ভাবনের নেশায়। গবেষণায় দেখা যায়, মেডিসিনাল উদ্ভিদ বা প্রাকৃতিক হার্বস হতে পারে বিকল্প পশুখাদ্য। ঔষধি গুণসম্পম্ন উদ্ভিদ এরই মধ্যে পৃথিবীর বিভিম্ন দেশে গ্রিন গ্রোথ প্রোমোটার হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। 

ড. মামুন নিজের চাষকৃত প্লানটেইন উদ্ভিদ সম্পর্কে বলেন, প্লানটেইন একটি নতুন আবিস্কৃত বহুবর্ষজীবী ঘাসজাতীয় ঔষধি গুণসম্পম্ন উদ্ভিদ, যা বিরূপ প্রভাব ছাড়াই পশুর শরীর অ্যান্টিবায়োটিক গ্রোথ প্রোমোটার কিংবা তার চেয়ে বেশি হারে বর্ধিত করবে। জাপান এবং চীন ঔষধি গুণসম্পম্ন উদ্ভিদ নিয়ে গবেষণায় অনেক দূর এগিয়েছে। সাধারণ ঘাসের তুলনায় এর মধ্যে অধিক পরিমাণ ভিটামিন 'সি' এবং 'ই' আছে। এ ছাড়া এর মাঝে এমন কিছু বায়োঅ্যাকটিভ উপাদান আছে, যা সাধারণ ঘাসে নেই। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবেও রয়েছে এর চমৎকার কার্যক্ষমতা। যা ফিদ্ধর্ যাডিকেলের কার্যকারিতা বন্ধ করে প্রাণীদেহের কোষ ধ্বংস হওয়া থেকে রক্ষা করে। জৈব পদ্ধতিতে প্রাণিজ মাংসের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে প্রাণিজ খাদ্য হিসেবে উদ্ভিদটি আলাদা গুরুত্ব বহন করে।