মঙ্গলবার, 10 মে 2016 11:45

বরিশালে বাম্পার বোরো পেয়েও দাদনের দুশ্চিন্তায় কৃষক

বিক্রিতে মণপ্রতি লোকসান ১শ’ টাকা

দৈনিক ইত্তেফাক || চলতি বছর বোরো চাষিরা বাম্পার ফলন পেলেও ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় দাদন পরিশোধ নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় পড়েছেন। উত্পাদন ব্যায় যা হয়েছে তাতে প্রতি মণ ধান বিক্রিতে লোকসান গুণতে হচ্ছে একশ’ টাকা। অব্যাহত লোকসানের মুখে ধান উত্পাদন ছেড়ে দেয়া ছাড়া কৃষকের আর কোনো উপায় থাকবে না বলে বোরো চাষিরা জানান।  প্রান্তিক বোরো চাষিদের বেশিরভাগই মহাজনদের কাছ থেকে মৌসুমের শুরুতে এক হাজার টাকার বিনিময়ে এক মণ ধান ও নগদ এক হাজার টাকা হারে দাদন নিয়েছেন। এ টাকায় চাষিরা উচ্চমূল্যে বীজ ক্রয় করে বীজতলা তৈরিসহ চাষাবাদ করেছেন। কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধির কারণে তাদের উত্পাদন ব্যায় বেড়েছে। প্রতি মণ ধান উত্পাদনে খরচ হয়েছে ৬শ’ টাকা। খরচ বেশি হলেও ধানের ফলন ভাল হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছিল। কিন্তু বাজার মূল্য তাদের চরম হতাশ করেছে। প্রতি মণ বোরো ধান বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ থেকে সর্বোচ্চ ৫শ’ টাকায়। প্রতি মণ ধান বিক্রি করতে গিয়ে তারা কমপক্ষে একশ’ টাকা লোকসান গুণছেন। কোথাও কোথাও লোকসানের পরিমাণ প্রতিমণে  দেড়শ’ থেকে দুশ’ টাকা। ধানের বাজারমূল্য কম হওয়ায় ধানকাটা শ্রমিকের সংকট দেখা দিয়েছে। গত বছরও তারা বোরো উত্পাদনে লোকসান গুণেছেন। জেলা কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারি সহায়তা কিংবা সহজ শর্তে কৃষি ঋণ না পেলে প্রান্তিক বোরো চাষি গোয়ালের গরু কিংবা স্ত্রীর গহনা বিক্রি করে মহাজনের দাদনের টাকা সুদসহ পরিশোধে বাধ্য হবে।

সরকার কৃষকের জন্য ব্যাংকের মাধ্যমে সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করলেও ব্যাংকিং সেক্টরের নিয়ম-নীতিসহ নানা জটিলতায় কৃষকরা ব্যাংক ঋণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বাধ্য হয়েই স্থানীয় মহাজন কিংবা এনজিও’র কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ সংগ্রহ করে থাকেন। এতে কৃষকরা ঝামেলা কম মনে করেন। ব্যাংক ঋণের ঝামেলা বেশি।