সোমবার, 18 এপ্রিল 2016 12:08

সিলেটের হাওরে জলমগ্ন পাকা বোরো ফসল

কালবৈশাখী শিলা বৃষ্টি বজ্রপাত

দৈনিক ইত্তেফাক || কালবৈশাখী ঝড়, বজ্রপাত ও শিলাঝড়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সিলেট অঞ্চলের মানুষ। বিভিন্নস্থান থেকে ফসলহানির খবর আসছে। হাওরাঞ্চলে শুরু হয়েছে সামাল-সামাল ডাক। গত এক সপ্তাহ ধরে চলছে সিলেটে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ। শনিবার দুপুরে হবিগঞ্জ সদর উপজেলায় বজ্রপাতে যুবলীগ নেতাসহ ৩ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তারা হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতের শিকার হন। এছাড়াও ঝড়ের তাণ্ডবে বিভিন্ন এলাকায় কাঁচা ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়। অনেক ঘরের টিনের চাল উড়ে গেছে। বিভিন্ন এলাকায় বড় বড় গাছগাছালি উপড়ে পড়েছে। কালবৈশাখীর তাণ্ডবে নগরীতে বার বার বিদ্যুত্ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে।শনিবার সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লোখার সময় নগরীসহ আশপাশ এলাকার অনেক স্থানে বিদ্যুত্ ছিল না, আবহওয়া দুর্যোগপূর্ণ। সিলেটের আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ জানান, মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে সিলেটে কালবৈশাখী ঝড়ের সাথে ব্যাপক বৃষ্টিপাত ও বজ্রপাত হচ্ছে। এই অবস্থা আরো কয়েকদিন চলতে পারে। আবহাওয়া বার্তায় বলা হয়েছে, আগামী ২১ থেকে ২৩ এপ্রিল ঝড় ও বৃষ্টি-বাদল বাড়তে পারে। তাই কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে ভাটির দেশের প্রধান ফসল পাকা বোরো ধান ঘরে তোলা নিয়ে কৃষকরা শঙ্কায় পড়েছেন। একদিকে ধান কাটার শ্রমিকের অভাব, অন্যদিকে ‘ফসল রক্ষা বাঁধ’ ভাঙার খবর। এই অবস্থায় কৃষক ও গৃহস্থ পরিবার পাগলপারা। অবশ্য সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসন ধানকাটা শ্রমিক সংকট দূর করতে জেলার বালি-পাথর মহালে উত্তোলন বন্ধ করে দিয়েছেন ধান কাটার মৌসুম শেষ না পর্যন্ত। এরই মধ্যে বিভিন্নস্থানে হাওর রক্ষা বাঁধ ভেঙে পাকা ফসল তলিয়ে গেছে। কৃষি বিভাগ জানায়, ঝড়-বৃষ্টি, শিলা ও বাঁধ ভেঙে সিলেট অঞ্চলে ৩০ কোটি টাকার বেশি ফসলহানি হয়েছে। ফসলের বেশি ক্ষতি হয়েছে সুনামগঞ্জ জেলায়। ‘কৃষি বিভাগের উদ্যোগে গ্রামের মসজিদে মসজিদে ধান কেটে ঘরে তোলার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে’ জানিয়ে সিলেট কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষ্ণ চন্দ্র হুড় বলেন, এ পর্যন্ত হাওরের ২৭ ভাগ বোরো কাটা হয়েছে। তিনি জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগে শনিবার পর্যন্ত সিলেটের চার জেলায় ৭ হাজার ৪৭২ হেক্টর জমির বোরো ফসল বিনষ্ট হয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় সিলেট অঞ্চলের বোরো ফসলের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে কৃষি বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা সিলেটের প্রত্যন্ত অঞ্চল সরজমিনে ঘুরে দেখছেন এবং তারা দ্রুত পাকা ধান ঘরে তোলার তাগিদ দিচ্ছেন।

ছাতকে তলিয়ে গেছে হাওরের পাকা বোরো ফসল

ছাতক (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, ছাতকে তলিয়ে গেছে কয়েকটি হাওরের পাকা বোরো ফসল। উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নের  নাইন্দা, ইসলামপুর ইউনিয়নের শিলুয়াকুড়ি, কালারুকা ইউনিয়নের ঝাওয়াবিল, উত্তর খুরমা ইউনিয়নের গয়ার-রুকুর হাওর, বিলছড়া, চরমহল্লা ইউনিয়নের ডিমকা, বাড়ুকা হাওর, জাউয়া ইউনিয়নের রাঙ্গাডিঙ্গা, ছাতক সদর ইউনিয়নের তেরাবিলসহ বেশ ক’টি বিল ও হাওরের পাকা বোরো ফসল অতি বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে। ফসল কাটার শ্রমিক না পাওয়ায় অনেক কৃষক তার পাকা ফসল  ঘরে তুলতে পারছেন না। উচ্চমূল্যেও ধান কাটার শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। উপজেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ইতিমধ্যে কৃষক বিল-হাওরের অর্ধেক পাকা ধান ঘরে তুলে নিতে সক্ষম হয়েছেন। বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে বিল-হাওরের অনেক পাকা ও অর্ধপাকা বোরো ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জগলুল হায়দার জানান, অতি বৃষ্টি ও আগাম বন্যার হাত থেকে বোরো ফসল রক্ষার জন্যে কৃষি বিভাগ আগে থেকেই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ২৩ এপ্রিলের মধ্যে সকল হাওরের পাকা বোরো ফসল কেটে নেয়ার জন্যে কৃষকদের বলা হয়েছে। সময়মত ফসল কেটে নিতে মসজিদ থেকে মাইকিংসহ বিভিন্নভাবে প্রচারণা চালিয়েছে কৃষি বিভাগ।