সোমবার, 15 অগাস্ট 2016 14:54

ভরা মৌসুমেও বৃষ্টি নেই সেচে চলছে আমন চাষ

দৈনিক ইত্তেফাক || নীলফামারীর সৈয়দপুরে প্রত্যাশা অনুযায়ী বৃষ্টি না হওয়ায় নদী-নালা ও জমিতে প্রয়োজনীয় পানি নেই। কোথাও কোথাও কৃষকরা সেচ দিয়ে আমন আবাদ চালিয়ে নিচ্ছেন। আষাঢ় প্রায় শেষ তবুও মুষলধারে বৃষ্টির দেখা নেই। রোদ বৃষ্টির খেলা চলছে। উপজেলার কামারপুকুর, বোতলাগাড়ি, খাতামধুপুর, কাশিরাম বেলপুকুর, বাঙালিপুর ইউনিয়নের জমিতে প্রয়োজনীয় পানি না থাকায় কৃষকরা শ্যালো মেশিন বসিয়ে সেচ দিয়ে আমনের চারা লাগাচ্ছেন। সময়মতো আমন চারা রোপণ করতে না পারলে ফলন ভালো হবে না এরকম আশঙ্কায় সেচ দিয়ে চলছে আমন আবাদ। তবে বিদ্যুত্ বিভ্রাটের কারণে সেখানেও সমস্যার অন্ত নেই। ঘনঘন লোডশেডিংয়ে সেচ যন্ত্র চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রেই ফসলের জমিতে পরিমিত সেচ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এবছর সৈয়দপুরে মোট ৮ হাজার ১৯০ হেক্টর জমিতে আমন রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

পানি না থাকায় মাছও নেই। সে কারণে মাছ ধরার ‘চাই’ বিক্রি নেই বললেই চলে। শহরের অদূরে ঢেলাপীর, তারাগঞ্জ, রানীরবন্দর হাট ঘুরে দেখা গেছে, মাছ ধরার চাই যাকে স্থানীয় ভাষায় ডাইরকি বলে সেগুলো নিয়ে বসে আছেন বাঁশের কারিগররা। নিপুণ হাতের তৈরি এসব চাই বিক্রি হচ্ছে খুবই কম। বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে এসব তৈরি করে থাকেন তারা। প্রকারভেদে এগুলো তৈরিতে খরচ পড়ে ৬০ থেকে ৩শ’ টাকা। আর তা বিক্রি হয় ১শ’ থেকে ৫শ’ টাকায়। কিন্তু এবছর বর্ষা বিলম্বিত হওয়ার কারণে বিক্রি নেই বললেই চলে।

অপরদিকে পর্যাপ্ত পানির অভাবে পাট জাগ দিতে পারছেন না কৃষকরা। পাট কেটে পাটের আঁটি যত্রতত্র ফেলে রাখা হয়েছে। কেউ কেউ সামান্য পানিতে পাট জাগ দিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েছেন। ভরা বর্ষাতেও প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত না হওয়ায় নদী-নালা, খাল-বিলে পাট জাগ দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পানি নেই। এই পাট বিক্রির উপরই কৃষকের সচ্ছলতা নির্ভর করে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হোমায়রা মন্ডল জানান, বর্ষা বিলম্বিত হওয়ায় কৃষকরা বীজতলার পরিবর্তে ‘চড়াই’ তৈরি করে রেখেছেন। বৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে এসব লাগানো শুরু করবেন। ফলে খুব একটা ক্ষতি হবে না কৃষকের। তিনি উল্লেখ করেন, বিভিন্ন স্থানে শ্যালো মেশিন চালিয়ে কৃষকরা আমনের চারা লাগাতে শুরু করেছেন। মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দিচ্ছেন।