বুধবার, 16 অগাস্ট 2017 11:40

বোরোর পর বন্যায় আমনও গেল

১ লাখ হেক্টরের ফসলের ক্ষতি

প্রথম আলো || বোরোর পর এবার আমন নিয়েও ক্ষতির মুখে পড়লেন কৃষক। আমন রোপণের এই সময়ে বন্যার পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে বীজতলা ও জমি। প্রথম আলোর প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যমতে, সারা দেশে ১ লাখ হেক্টরের বেশি জমির ফসল বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর ত্রাণের জন্য হাহাকার থাকলেও বিভিন্ন জেলা প্রশাসন বলছে, পর্যাপ্ত চাল বরাদ্দ আছে। ইতিমধ্যে ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়েছে।

আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক, আঞ্চলিক কার্যালয় ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:

১ লাখ হেক্টরের বেশি ফসলের ক্ষতি

কুড়িগ্রামে বন্যার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় ভেসে গেছে ঘের ও পুকুরের মাছ। বন্যায় ডুবে আছে কয়েক শ একরের ফসল। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ জানায়, জেলায় ৪২ হাজার ৩৯১ হেক্টর জমির বীজতলা, আমন ও শাকসবজি পানিতে তলিয়ে গেছে। তিন দিন ধরে ফসল নিমজ্জিত থাকায় কৃষকেরা আছেন শঙ্কায়।

রংপুরে ৩৬ হাজার ২০০ হেক্টর রোপা আমন ও ১ হাজার ১১৫ হেক্টরের সবজিখেত পানিতে তলিয়ে গেছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের উপপরিচালক স ম আশরাফ আলী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ঠাকুরগাঁওয়ে বন্যায় ১৪ হাজার ৫০০ হেক্টর জমির আমন ও ১৬০ হেক্টর সবজিখেত পানিতে ডুবে আছে।

 

নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বন্যায় জেলার পাঁচটি উপজেলায় গতকাল দুপুর পর্যন্ত ১৮ হাজার ৩০৩ হেক্টর রোপা আমন, আউশ ও সবজিখেত সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হয়েছে।

নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর

কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপৎসীমার ৮৫ সেন্টিমিটার ও নুনখাওয়ায় দুধকুমার নদের পানি বিপৎসীমার ১৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ধরলা নদীর পানি বিপৎসীমার ১০১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। গাইবান্ধায় গতকাল দুপুরে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ফুলছড়ি পয়েন্টে বিপৎসীমার ১০০, ঘাঘট নদের পানি গাইবান্ধা শহররক্ষা বাঁধ পয়েন্টে ৮২, করতোয়া নদীর পানি গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্টে ৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

ঠাকুরগাঁও পাউবো সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকালে টাঙ্গন নদের পানি বিপৎসীমার ২২০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। নওগাঁয় আত্রাই নদের পানি গতকাল বিপৎসীমার ২০৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। পাউবোর নওগাঁ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘গতকাল নওগাঁর আত্রাই ও ছোট যমুনা নদীর পানির প্রবাহ বেড়েছে। কালও নদীতে পানির প্রবাহ বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে।’

ত্রাণ তৎপরতা

সরকারি পর্যায়ে বন্যাদুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়েছে। গাইবান্ধা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা ইদ্রিস আলী বলেন, বন্যাকবলিত মানুষের জন্য এ পর্যন্ত ৩৭৬ মেট্রিক টন চাল ও ৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। দুর্গত এলাকায় এসব ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। নওগাঁর অনেক স্থানে এখনো ত্রাণ পৌঁছায়নি। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক আমিনুর রহমান বলেন, ‘ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে না এটা ঠিক না। চেয়ারম্যান-মেম্বারদের কাছ থেকে যেসব তালিকা পাওয়া যাচ্ছে সে অনুযায়ী ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।’ জেলা প্রশাসক আরও জানান, বন্যাদুর্গত ব্যক্তিদের সহযোগিতায় এ পর্যন্ত ১০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যে মান্দার বিভিন্ন এলাকায় বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে ৩৩ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে।

 

জামালপুরের সবচেয়ে দুর্গত উপজেলা ইসলামপুরের দেলিরপাড় গ্রামে ত্রাণের জন্য হাহাকার দেখা গেল। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে নৌকায় সরকারি কোনো ত্রাণ কর্মকর্তা এসেছেনÑএই ভেবে বুকসম পানি ঠেলে এগিয়ে এলেন মধ্যবয়সী হালিমা খাতুন। তাঁর হাতে কলসি। কলসিতে বিশুদ্ধ পানি, এনেছেন এক কিলোমিটার দূরের একটি গ্রাম থেকে। বন্যার নোংরা পানিতে কলসি রেখে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছেন ঘরে। ঘরে মাচার ওপরেও পানি। কোথায় তিনি রাখবেন এই বিশুদ্ধ পানি? বললেন, ‘এত বড় একটা বান হইতাছে, একটা কিছু পাইলাম না!’জানতে চাইলে জামালপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর প্রথম আলোকে বলেন, ১২৮ মেট্রিক টন চাল ও ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ওই সব বরাদ্দের ত্রাণ দুর্গত এলাকায় বিতরণ শুরু করা হয়েছে।