মঙ্গলবার, 26 সেপ্টেম্বর 2017 13:09

রংপুরে বন্যায় ১৯৪ কোটি টাকার ফসল নষ্ট

দৈনিক ইত্তেফাক || চলতি বছর বন্যায় রংপুরের জেলার ৮ উপজেলার মধ্যে ৬টি উপজেলায় প্রায় ১৯৪ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবার রয়েছে ১ লাখ ৮৯ হাজার ২০টি। এর মধ্যে মাত্র ১৭ হাজার ৪১৮টি পরিবারকে (১০ শতাংশ) সহায়তা দেওয়া হলেও প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারই কৃষি সহায়তার বাইরে রয়েছে। তিস্তা নদী-তীরবর্তী লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের শংকরদহ গ্রামের বাসিন্দা মানিক মিয়া বলেন, এবার বন্যায় তার আমন ধানের চারা সব নষ্ট হয়ে গেছে। নতুন করে চারা লাগানোর জন্য কেউ চারা দেয়নি। এর আগে ধার দেনা করে যে চারা লাগিয়েছিলাম সেই টাকাও এখনো পরিশোধ করতে পারিনি। তাই নতুন করে আমন চারা চাষ করে আলু ও ভুট্রা চাষ করবে, তারও কোনো উপায় নেই।

কৃষক রফিজ উদ্দিন বলেন, তিন হাজার টাকা ধারদেনা করে সাত বিঘা জমিতে আমনের চাষ করেছিলেন। গত মধ্য আগস্টের বন্যায় সেই খেত তলিয়ে পুরোটাই নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো কৃষি সহায়তা পাননি রংপুরের গংগাচড়া উপজেলার এই বর্গাচাষি। গতকাল রবিবার সরেজমিনে গিয়ে গত মঙ্গলবার সকালে শংকরদহ গ্রামে গিয়ে এমন অনেক কৃষকেরই করুণ কাহিনী শোনা গেল। গ্রামের বর্গাচাষি সাদমান হোসেনের ৮ বিঘা, হোসেন আলীর ৪ বিঘা, জোনাব আলীর ৬ বিঘা, মোকাররমের ৫ বিঘা জমির আমনখেত পুরোটা বন্যায় নষ্ট হয়ে গেছে। তাদের কেউই নতুন করে ফসল চাষের জন্য কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো সাহায্য-সহযোগিতা পাননি বলে জানালেন। উপজেলার মর্নেয়া ইউনিয়নের ছোট রূপাই গ্রামের বর্গাচাষি হোসেন আলীর আমনখেত যেমন বন্যায় নষ্ট হয়েছে, তেমনি বসত ভিটাও নদীতে বিলীন হয়েছে। তিনিও পাননি কোনো আর্থিক সহায়তা। তিনি বলেন, আট শতক জমির ওপর বাড়িভিটা ছিলো। নদীর ভাঙনের পর ঘর ভেঙে রাস্তার পাশে কোনো রকমে ঘর তুলে ছিলো। সরকারিভাবে কিছু চাল দেওয়া হলেও ঘর করার কোনো টাকা দেয় নাই। একই অভিযোগ ওই এলাকার বর্গাচাষি রফিকুল ইসলাম।

গঙ্গাচড়া উপজেলার আলমার বাজার এলাকার সুমন আলী বলেন, বন্যার সময় ঘর ভাঙিয়া রাস্তায় নিয়া আসছি। এখন আগের জায়গাত যে ঘরবাড়ি তুলব, তার জন্য তো টাকা লাগবে। কিন্তু এই টাকা কোথায় পাই? এদিকে, নদী ভাঙনে বিধ্বস্ত বিভিন্ন উপজেলার লোকজন নতুন করে এখানে-ওখানে ঘর তুলছেন ধারদেনা করে। তাদের বেশির ভাগের অভিযোগ, ঘর পুনর্নির্মাণের জন্য তারা অর্থ সহায়তা পাননি। রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক স ম আশরাফ আলী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ওই  ১৭ হাজার ৪১৮টি পরিবারকে আমনের চারা ও মাষকালাইয়ের বীজ দেওয়া হয়েছে। ভুট্টা, গম, মুগডাল ও সরিষার বীজ শিগগিরই দেওয়া হবে। রংপুর জেলা প্রশাসনের ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা দেশের বাইরে থাকায় ওই শাখার কর্মকর্তা ইসরাক সাকিবের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘বন্যায় জেলার প্রায় ২ হাজার পরিবারের ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। তাদের ঘরবাড়ি নির্মাণসহ অন্যান্য কাজে জেলায় মোট ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ১ হাজার ১০০ পরিবারকে টাকা দেওয়া হয়েছে।’