রবিবার, 26 নভেম্বর 2017 14:04

হাওরে বীজতলা তৈরি করতে পারেননি কৃষক

জমিতে এখনও পানি 

সমকাল || জেলার খালিয়াজুরী উপজেলার হাওর এলাকায় জমিতে পানি থাকায় কৃষকরা বোরো বীজতলা তৈরি করতে পারছেন না। কবে নাগাদ বোরো ফসল রোপণ সম্ভব হবে, তাও অনিশ্চিত। সঠিক সময়ে বোরো আবাদ শুরু করতে না পারলে দেরিতে ফসল উঠবে বলে কৃষকরা মনে করছেন। ফলে গত বছরের মতো আবার অকাল বন্যায় ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

খালিয়াজুরীর কৃষক মনির হোসেন বলেন, এবার দেরিতে জমিতে ধানের চারা রোপণ করতে হবে। তাই ফসল ভালো হওয়ার আশা করে লাভ নেই। আরও ১০-১২ দিন পরে জালা (ধানের বীজ) ফেললে শীতের কারণে ভালো চারা পাওয়া যাবে না। ভালো চারা না হলে ভালো ফসলও হবে না। তা ছাড়া দেরিতে ধান উঠবে বলে আবারও আগাম বন্যায় ফসলহানির আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি জানান। 

কাদিরপুরের প্রবীণ কৃষক শ্রীচরণ সরকার বলেন, ধনু নদীর উৎস এবং সুরমার মোহনা থেকে উত্তরাঞ্চল খানিকটা উঁচু। আবার নেত্রকোনার খালিয়াজুরীর ধনু নদী থেকে কিশোরগঞ্জের ইটনা পর্যন্ত হাওর এলাকাটি তুলনামূলক নিচু। ওদিকে ইটনা থেকে কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মধ্যবর্তী মেঘনার মোহনা পর্যন্ত এলাকাটি ভরাট হয়ে উঁচু হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে মেঘনার মোহনা থেকে উত্তর দিকে নদী খনন অত্যন্ত জরুরি। তা না হলে প্রতি বছর অকাল বন্যার হাত থেকে ফসল রক্ষা করা সম্ভব হবে না।

উপজেলা সদরের প্রয়াত ধনাঢ্য কৃষক আবদুস শহীদ তালুকদারের স্ত্রী আলেছা তালুকদার স্বামীর মৃত্যুর পর নিজেই জমির দেখাশোনা করেন। হাওরে তাদের প্রায় ৬০ একর জমি আছে। জমির চাষাবাদ ও পত্তন থেকে আসা আয় দিয়েই তার সংসার চলে। এবারের আগাম বন্যায় ফসল বিনষ্ট হওয়ার কারণে এখন তার আর জমি চাষ করতে আগ্রহ নেই। আলেছা তালুকদার জানান, বন্যায় ফসল মার খেয়ে বর্গাচাষিরা জমি পত্তনও নিতে চাইছেন না। এবার হাওর থেকে পানি না সরায় কেউই বীজতলা তৈরি করতে পারছে না। এসব কারণে এবার মাত্র ১৬ একর জমি পত্তন দিতে পেরেছেন। বাদ বাকি জমি পতিত থাকার আশঙ্কা করছেন তিনি। হাওরাঞ্চলজুড়েই এখন কৃষকের আহাজারি চলছে। এ সমস্যা কেবল খালিয়াজুরীর নয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার মোহনগঞ্জ, মদন, কলমাকান্দার বিভিন্ন হাওর এখন পানিতে ডুবে থাকায় কৃষকরা বীজতলা তৈরি করতে পারছেন না।

কৃষি বিশেষজ্ঞ ও হাওরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বছরের পর বছর ধরে হাওরের নদীগুলো খনন না করায় সেগুলো ভরাট হয়ে গেছে। অন্যদিকে মেঘনা নদীতে তিনটি ব্রিজ হয়েছে। এসব কারণেই পানি সরতে দেরি হচ্ছে। খালিয়াজুরী উপজেলা কৃষি অফিসার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, হাওরের পানি ধীরগতিতে কমছে। কৃষকরা বীজতলা তৈরি করতে পারছে না। ব্রি ধান ২৯ বপনের সময় পার হয়ে গেলেও ব্রি-২৮ জাতের ধান বীজ বপনের সময় এখনও আছে।

এই ক্যাটেগরিতে অন্তর্ভুক্ত: « রংপুরে বন্যায় ১৯৪ কোটি টাকার ফসল নষ্ট