বুধবার, 25 মে 2016 12:06

পাহাড়ে মৌসুমি ফলের বাম্পার ফলন হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে চাষি

দৈনিক ইত্তেফাক || তিন পার্বত্যা জেলায় এ বছর মৌসুমি ফলের বাম্পার ফলন হয়েছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব ফল যাচ্ছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। রাঙ্গামাটির বিভিন্ন এলাকা থেকে লিচু, আম, কাঁঠাল, আনারস, কলা আসছে শহরের পাইকারি বাজার বনরূপা, সমতাঘাট, রিজার্ভ বাজার, তবলছড়ি, ট্রাক টার্মিনাল ও কলেজ গেইট ব্যবসায়ীদের কাছে। তাদের মাধ্যমে এ সব ফল যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। মৌসুমী ফলের মধ্যে লিচুর প্রতি মানুষের আকর্ষণ বেশি। বর্তমানে পার্বত্য জেলায় কাঁঠাল, আম ও আনারসের পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষ হচ্ছে চায়না-২, চায়না-৩ জাতের লিচু।

রাঙ্গামাটির উপ-সহকারী কৃষি অফিসার শান্তি চাকমা জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় রাঙ্গামাটিতে আম, কাঁঠাল, আনারস, লিচুর প্রচুর ফলন হয়েছে। এর মধ্যে রাঙ্গামাটি সদর, নানিয়ারচর, বিলাইছড়ি, কাপ্তাই, কাউখালী, বরকল, জুরাছড়ি, লংগদু, বাঘাইছড়ি, রাজস্থলীতে লিচুর ভালো ফলন হয়েছে। মৌসুমি ফল ব্যবসায়ী লিয়াকত আলী জানান, উৎপাদন প্রচুর হলেও হিমাগার না থাকায় ফলমূল সংরক্ষণ করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

রাঙ্গামাটি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক রমনী কান্তি চাকমা জানান, এবারে ২ হাজার ৯শ ৫৫ হেক্টর জমিতে প্রায় সাড়ে ১২ টন থেকে ১৩ টন আম, ৩ হাজার ৮শ ৬৩ হেক্টর জমিতে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ মেট্রিক টন কাঁঠাল, ১৪শ ৯৫ হেক্টর জমিতে প্রায় ৯ থেকে ১০ টনের মতো লিচু উৎপন্ন হয়েছে। ১৩ হাজার ৭শ ৫৮ হেক্টরে কলা চাষ হয়েছে। এর মধ্যে বাংলা ও চাঁপা কলা গাছ বেশি; কিন্তু তিন পার্বত্য জেলায় ফল সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের সুবিধা না থাকায় প্রতি বছর কোটি টাকার ফলমূল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাই সম্ভাবনাময় এ খাতকে আরো লাভজনক করতে হলে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন।