শুক্রবার, 06 সেপ্টেম্বর 2013 00:00

ঝিনাইদহে ফসলী জমি অধিগ্রহণে কৃষকদের ক্ষোভ

রাইজিংবিডি.কম || ঝিনাইদহের মহেশপুরের হাটখালিশপুর এলাকার ফসলী জমিতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবির ব্যাটেলিয়ান সদর দপ্তর নির্মাণের উদ্যোগে ক্ষুদ্ধ এলাকার কৃষকরা। তাদের অভিযোগ, তিন   ফসলী জমিতে বিজিবির দপ্তরটি করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে জেলা প্রশাসন সম্প্রতি এলাকার ১১ একর তিন ফসলী জমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে।

কৃষকরা বলছেন, প্রস্তাবিত  বিজিবি ব্যাটেলিয়ান সদর দপ্তরটি হাটখালিশপুরে না করে কিছুটা দূরে  বজরাপুর এলাকার খাসজমিতে নির্মাণ করা যেতে পারে। এতে একদিকে যেমন ফসলী জমি রক্ষা হবে, তেমনী জমির অধিগ্রহণ ব্যয় বাবদ বিপুল অর্থেরও সাশ্রয় হবে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে , জেলার হাটখালিশপুর এলাকায় বিজিবি ব্যাটেলিয়ান সদর দপ্তর নির্মাণের জন্য মোট ২৫ একর জমির প্রয়োজন।  সম্প্রতি এলাকার রফিকুল, আরিফুল ও বিশারত মণ্ডলসহ ৮ কৃষক পরিবারের প্রায় ১১ একর তিন ফসলী জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসনের অধিগ্রহণ শাখার একজন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট গত কয়েকদিন আগে ভূমি অফিসের লোকজন নিয়ে মাপজোখের কাজ করে গেছেন। এখন নোটিশ জারির বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

এলাকায় সরেজমিনে গেলে কৃষকরা অভিযোগে বলেন,  যে ৮ পরিবারের ১১ একর জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে , তাদের আর কোন জমি নেই।  কয়েক বছর আগে এসব পরিবারের আরও ১২ একর  ফসলী জমি অধিগ্রহণ করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। জমিগুলিতে সওজ একটি ভাটা নির্মাণ করেছে। এখন বিজিবি ব্যাটেলিয়ানের জন্য অবশিষ্ট জমিগুলি অধিগ্রহণ করলে এসব কৃষক পরিবার পুরোপুরি ভূমিহীনে পরিণত হবেন।

ভুক্তভোগী কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, তিন ফসলী এসব জমির উপর নির্ভর করে চলে তাদের জীবন জীবিকা। বাকি ৭ কৃষকেরও একই  অবস্থা। জমিগুলি সরকার নিয়ে নিলে তাদের আর কোন জমিই অবশিষ্ট থাকবে না। জমি অধিগ্রহণ থেকে যে টাকা মিলবে তা দিয়ে কিছুই করা যাবে না। জমিগুলি বাঁচাতে তাই তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন।  

 এলাকার কৃষকরা আরও জানান,  হাট-খালিশপুর মৌজায় খালিশপুর বাজার প্রতিষ্ঠিত। এর আগে এলাকার কৃষকদের জমির সিংহভাগ চলে গেছে বাজার প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনে। সওজ নিয়েছে ১২ একর। বর্তমানে গ্রামে  ৮০ থেকে ৮৫ বিঘা চাষযোগ্য জমি আছে পুরো গ্রামে। গ্রামের জনসংখ্যা প্রায় ৫ হাজার।  এই জমি চাষের আয়ে বেঁচে আছেন তারা। পাশাপাশি কিছু মানুষ বাজারে ব্যবসা  করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এখন আরও ১১ একর জমি চলে গেলে কৃষক পরিবারগুলি জীবিকা সঙ্কটে পড়বেন।    

আরেক কৃষক কামাল হোসেন জানান, সড়কের পাশেই এসব ফসলী জমি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে  যে পরিমাণ জমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তাতে ৮ টি পরিবার পুরোপুরি ভুমিহীন হয়ে যাবে। 

এলাকার বাসিন্দা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার কামালুজ্জামান জানান, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে তিনি সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এখনও কোন সাড়া পান নি।  তিনি আরও বলেন, একটি আইন আছে, ফসলী জমি অধিগ্রহণ করা যাবে না। অথচ তাদের এলাকার এসব তিন ফসলী জমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে । তাঁর মতে, এলাকার কৃষকদের জমি কম হলেও ফসল ভালো হওয়ায় এর উপরেই তারা বেঁচে আছেন। কিন্তু এসব জমি এখন অধিগ্রহণ করে নেওয়া হলে তাদের পথে বসতে হবে। তারও কিছু জমি এই অধিগ্রহণের আওতায় রয়েছে বলে তিনি জানান।

মহেশপুর উপজেলার এসবিকে ইউপির সদস্য আব্দুল খালেক জানান, খালিশপুর বাজার থেকে কিছুটা পূর্বে বজরাপুর মৌজায় সরকারের ৭ একর খাস জমিসহ বেশ কিছু পরিত্যক্ত জমি রয়েছে। সেখানে বিজিবির ব্যাটেলিয়ান সদর দপ্তর নির্মাণ করা যেতে পারে। বিকল্প এই জায়গাটি হাইওয়ের পাশে। সবদিক থেকেই উপযুক্ত।  বিকল্প এই জায়গাটির কথা বিবেচনার দাবি জানান তিনি।   

 এ ব্যাপারে বজরাপুর গ্রামের বাসিন্দা আজিবর রহমান জানান, কৃষকের তিন ফসলি জমি নষ্ট না করে তাদের এলাকার পরিত্যক্ত জমিতে বিজিবির দপ্তরটি হলে সবদিক থেকে ভালো হবে। তারাও চান বিজিবি কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অনুধাবন করে কৃষকের ফসলী জমি নষ্ট না করে বজরাপুর মৌজার  জমিতেই করবেন।

এ ব্যাপারে ৬, ব্যাটেলিয়ান বিজিবি’র  অধিনায়ক লে. কর্ণেল গাজী আসাদুজ্জামান এ ব্যাপারে বলেন, হাটখালিশপুরের জায়গাটি নেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। কৃষকরা অনেক কথা বলবেন, অনেকের অনেক সমস্যা থকাতে পারে। কিন্তু সরকারের প্রয়োজনে জমি অধিগ্রহণ করতেই হবে তাদের।

এই ক্যাটেগরিতে অন্তর্ভুক্ত: পাংশায় বসতভিটা ও শত শতবিঘা জমি নদীতে বিলীন »