শুক্রবার, 20 সেপ্টেম্বর 2013 00:00

পাংশায় বসতভিটা ও শত শতবিঘা জমি নদীতে বিলীন

দৈনিক ইত্তেফাক || রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের ১৫শ' পরিবারের বসতভিটা ও ২৫শ' বিঘা জমি পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে। হুমকিতে রয়েছে পূর্ব চরআফড়া ও চররামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্বচরআফড়া কমিউনিটি ক্লিনিক এবং চররামনগর, পূর্ব চরআফড়া ও চরশাহমীরপুর জামে মসজিদ। এসব এলাকার দেড় কিলোমিটার পাকা রাস্তাসহ প্রায় ২০ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। জমি-ভিটা হারিয়ে অসহায় অবস্থায় মানবেতরভাবে জীবনযাপন করছেন এসব বন্যাদুর্গত এলাকার বাসিন্দা। হাবাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (ইউপি মেম্বার) মো. মুকুল বিশ্বাস জানান, চরশাহমীরপুর গ্রামের পুরো অংশ এবং শাহমীরপুর গ্রামের অর্ধেক অংশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। আর শাহমীরপুর গ্রামের বাকি অংশ নদীর পানিতে প্লাবিত হয়ে আছে। কিন্তু বন্যাদুর্গত এসব এলাকার মানুষের জন্য প্রশাসন থেকে কোন ধরনের সহায়তা দেয়া হয়নি।
ইউপি সদস্য আল আমীন জানান, চররামনগর গ্রামের পুরোটাই, সাদারচর গ্রামের অর্ধেক এবং পূর্ব চরআফড়া গ্রামের এক-চতুর্থাংশ পদ্মার পেটে। এই ওয়ার্ডের যারা এখনো ভাঙনের শিকার হননি তারাও পানিবন্দী অবস্থায় আছেন। মারাত্মক বিপাকে পড়েছেন গবাদিপশু নিয়ে। ৭ নম্বর ওয়ার্ডের এক-চতুর্থাংশ বিলীন ও বাকি অংশ প্লাবিত হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পানিবন্দী অনেকেই বাড়ির গাছপালা কেটে বিক্রি করার জন্য নিয়ে যাচ্ছেন। নলকূপ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় নৌকা বা কলাগাছের ভেলায় করে দূর থেকে খাবার পানি আনছেন। চরশাহমীরপুর গ্রামের বৃদ্ধা সহিতন নেছা জানান, শুধু তো ফটো তোলেন, তাতে আমাদের তো কোন লাভ নেই। স্বামী নাই, বড় ছেলেরাও আলাদা থাকে, একটি পাগল ছেলেকে নিয়ে থাকি। এবার বাড়িটাও নিয়ে নিলো পদ্মা যদি পারেন একটু সাহায্যের ব্যবস্থা করেন। পূর্ব চরআফড়া গ্রামের শাজাহান মোল্লা জানান, ৩ বিঘা জমির উপর মেহগনি গাছের বাগানের। সব নদীতে চলে যাওয়ায় কমপক্ষে বারো লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। একই গ্রামের আনোয়ারা বেগম জানান, বছর খানেক আগে স্বামী মারা যাবার পর বিদেশে ছেলে মারা যায়। ছেলেকে ধার-দেনা করে পাঠিয়েছিলাম সেই টাকা এখনো পরিশোধ করতে পারিনি। এখন বসতভিটাটাও হারালাম। সামনে কিভাবে চলবো, কোথায় থাকবো তা ভেবে পাই না।
হাবাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আল মামুন খান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের লোকজনের সহায়তার জন্য নিয়মিত উপজেলা প্রশাসনকে লিখিতভাবে অবহিত করছি। আশ্বাস পেলেও এখনো পর্যন্ত কোন সাহায্য-সহযোগিতা পাচ্ছি না। তিনি কর্তৃপক্ষকে দ্রুত এসব এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তার দাবি জানান।