রবিবার, 22 সেপ্টেম্বর 2013 16:22

খাস জমি দখলদারদের হোল্ডিং নম্বর দিচ্ছে বিসিসি

বন্ধ করতে চিঠি প্রশাসনের

সমকাল || খাস জমি দখলদারদের হোল্ডিং সনদ প্রদান করছে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি)। দখলদাররা বিসিসির অসাধু কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করে হোল্ডিং নম্বর পেয়ে দখল করা সরকারি জমির মালিক বনে যাচ্ছেন। বরিশাল জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নগরীর ঝাপবস্তি, পলাশপুর, রসূলপুর, মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় এমন ১০ সহস্রাধিক অবৈধ দখলদার সরকারি জমি দখল করে বিসিসি থেকে হোল্ডিং নম্বর নিয়ে সেখানে গড়ে তুলছেন পাকা-আধাপাকা অবৈধ স্থাপনা। সরকারি জমি বেহাত হওয়ার এ প্রক্রিয়া বন্ধ করতে সম্প্রতি অবৈধ দখলদারদের হোল্ডিং নম্বর বাতিলসহ সংশ্লিষ্ট দায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে চিঠি দিয়েছেন সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আশাফুর রহমান।
বরিশাল নগরীর ইসলামিয়া কলেজ সড়ক সংলগ্ন ঝাপবস্তিতে জনৈক আলমগীর হোসেন পাকা স্থাপনা নির্মাণ করে মুদিদোকান চালু করেছেন। তার দোকানের হোল্ডিং নম্বর ৮৪৬। আলমগীরের মতো ওই বস্তির দুই শতাধিক অবৈধ দখলদার বিসিসির কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর কল্যাণে হোল্ডিং নম্বর পেয়েছেন। হোল্ডিং নম্বর পাওয়াকেই ওই দখলদাররা জমির মালিকানা সনদ মনে করছেন। যদিও গত সপ্তাহে ঝাপবস্তিতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই জমি সরকারি হিসেবে উল্লেখ করে সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। একইভাবে নগরীর পলাশপুর, মোহাম্মদপুর, আমানতগঞ্জ ও রসূলপুর এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে সরকারি খাস জমিতে অবৈধ দখলদারদের গত কয়েক বছর ধরে
হোল্ডিং নম্বর দেওয়া হয়েছে।
বরিশাল সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশাফুর রহমান জানান, যাদের জমির কোনো পরচা বা খাজনার কাগজপত্র নেই তাদের কীভাবে হোল্ডিং নম্বর দেওয়া হলো তা বোধগম্য নয়। এ পর্যন্ত দেওয়া হোল্ডিং নম্বর বাতিল ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিখিল চন্দ্র দাস জানান, না জেনে বুঝে হয়তো বিসিসি থেকে হোল্ডিং নম্বর দেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। অবৈধভাবে দেওয়া হোল্ডিং বাতিল করা হবে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খোঁজ নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।