শনিবার, 23 অগাস্ট 2014 00:00

ডোমারে দলিল পেলেও জমি পাননি ভূমিহীনরা

সমকাল || প্রায় দেড় যুগ ধরে খাসজমির দলিল বুকে আঁকড়ে ধরে আছেন দুই শতাধিক ভূমিহীন মানুষ। অথচ দখল পাননি জমির। এদিকে তাদের ওপর চলছে নানা ধরনের অত্যাচার। নীলফামারীর ডোমার উপজেলার ভোগডাবুড়ি ও গোমনাতি ইউনিয়নের এসব জমির বেশিরভাগই প্রভাবশালীদের দখলে। অভিযোগ উঠেছে, প্রশাসনেরও তেমন সহযোগিতা পাওয়া যায় না জমি উদ্ধারে। উল্টো কারও কারও দখলে থাকা জমিও হাতছাড়া হয়েছে কিছু সরকারি কর্মকর্তা-কমচারীর কারণে। ভূমি অফিস সূত্র জানায়, ভোগডাবুড়ি ইউনিয়নের ১৫৭টি ও গোমনাতি ইউনিয়নের ৭৭টি পরিবার খাসজমি বরাদ্দ পেলেও দীর্ঘদিনেও জমির দখল পায়নি। ১৯৯৭ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে বরাদ্দ জমি রেজিস্ট্রি করে তাদের হাতে দেওয়া হয়েছে দলিল। হতদরিদ্র এসব মানুষ জমি পাওয়ার আশায় জনপ্রতিনিধিসহ কর্মকর্তাদের পেছনে ঘুরছেন। করেছেন আন্দোলন-সংগ্রাম, কিন্তু কাজ হয়নি। উল্টো মিথ্যা মামলা সাজিয়ে কাউকে কাউকে করা হয়েছে হয়রানি। জমিতে গেলে বেঁধে রেখে করা হয়েছে শারীরিক নির্যাতন। আবার এক-দু'জন কোনোভাবে জমির দখল পেলেও স্থানীয় ভূমি অফিসের কিছু অসৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীর কারণে সেটুকুও হাতছাড়া হয়ে গেছে।
ভোগডাবুড়ি ইউনিয়নের পূর্ব ভোগডাবুড়ি গ্রামের আজিজার রহমান পান প্রায় ৮৩ শতক জমি। ওই জমি তার দখলেও ছিল। কিন্তু ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী তহশিলদারের পরামর্শ পেয়ে বাড়ির পাশে অন্য খাসজমি পাওয়ার আশায় দখল ছেড়ে দেন। পরে আর জমির দখল পাননি। আজিজার রহমানের ছেলে রেজাউল ইসলাম বলেন, ওই সহকারী তহশিলদার ইতিমধ্যে অবসরে গেছেন এবং তিনিও খাসজমি নিয়েছেন। একই গ্রামের সফিকুল ইসলাম পান ২৫ শতক জমির দলিল। ওই জমিতে গেলে তাকে দখলদার নুরুল ইসলাম জোনাকু আটক করে রেখে নির্মমভাবে পেটায়। এই ঘটনা ঘটে ২০১৩ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি। এ ছাড়া তার এই ২৫ শতক জমি ২ লাখ টাকায় বন্ধক দেখিয়ে একটি ভুয়া দলিল করে জোনাকুর ছেলে তজিজুল ইসলাম। যা পরে মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া একইভাবে মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে মামলা করা হয় ৬ জন ভূমিহীনের বিরুদ্ধেও। এই মামলার বাদী ছিলেন খাসজমির অবৈধ দখলদার আবু তাহেরের বোন বানু বেগম। মামলার আরজিতে বলা হয়, ওই ৬ আসামি বাদীর ওপর নির্যাতন চালায়। এই ঘটনার তারিখ দেওয়া হয় ২০১২ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি। অথচ এর প্রায় ৪ বছর আগেই মারা গেছেন ৬ নম্বর আসামি জেলে রহমান। যেহেতু ভূমিহীন জেলে রহমানের নামে খাসজমির দলিল আছে সে কারণে তাকেও আসামি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এসব আসামি প্রত্যেকেই ২৫ শতক করে খাসজমির দলিল পেয়েছেন।
এদিকে একই ইউনিয়নের খাসজমির অবৈধ দখলদারদের পক্ষে মমতাজ উদ্দিন বাদী হয়ে নীলফামারী জজকোর্টে মামলা করে হেরে হাইকোর্টে যান। মামলায় বিবাদী করা হয় নীলফামারী জেলা ও ডোমার উপজেলার সরকারি কর্মকর্তাদের। মামলার আরজিতে বলা হয়, অন্যায়ভাবে জমি খাস দেখানো হয়েছে। এই রিটও হাইকোর্টে ২০১১ সালে খারিজ হয়ে যায়। এরপরও সে সব উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের পক্ষে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে নীলফামারীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এনামুল হক বলেন, জেনেছি এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে যাওয়া হচ্ছে। সে কারণে উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।