বুধবার, 09 ডিসেম্বর 2015 13:38

পাকা ধান কাটা নিয়ে আতঙ্কে ৯ গ্রামের কয়েক হাজার চাষি

দৈনিক ইত্তেফাক || ভোলার দক্ষিণ আইচা থানা এবং পটুয়াখালীর গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলার সীমানা ঘেঁষা সহস্রাধিক একর জমির পাকা ধান নিয়ে ৯ টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পাকা ধানের দখল নিতে দুই জেলার ৯টি গ্রামের কয়েক হাজার কৃষক যে কোনো সময় রক্তক্ষয়ী সহিংসতায় জড়িয়ে পড়তে পারেন। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রিতার পাশাপাশি ভূমিদস্যুদের উস্কানির কারণে দীর্ঘদিন ধরে এই বিরোধের কোনো সুরাহা করা যাচ্ছে না। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ আইচা থানার মুজিবনগর ইউনিয়নের চর মোতাহার মৌজার সাথে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার চর বোরহান ও চর শাহজালাল এবং দক্ষিণ আইচা থানার মুজিবনগর ইউনিয়নের চরলিউলিন ও চরমনোহার মৌজার সাথে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার উত্তর চর বিশ্বাস, কপাল বেড়া এবং বড় শিবা মৌজার সীমানা বিরোধ চলছে।
চরমনোহর ও মোতাহার মৌজার শাহাবুদ্দিন অভিযোগ করেন, ১৯৭২-১৯৭৩ সালে বন্দোবস্ত নিয়ে স্থানীয় কৃষকরা এসব জমি চাষ করে আসছে। কিন্তু দশমিনা ও গলাচিপার ভূমিদস্যুদের প্রভাবে প্রশাসন সীমানা পিলার স্থাপন করতে পারছে না। ভূমিদস্যুরা সীমানা বিরোধকে পুঁজি করে ধান পাকার মৌসুমে বিরোধীয় এলাকায় হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে ক্ষেতের পাকা ধান আর গরু-মহিষ লুট করে নেয়। পাকা ধানকে সামনে রেখে অতীত ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশংকায় শংকিত হয়ে পড়েছে কয়েকটি গ্রামের সাধারণ মানুষ। তাই তাদের দাবি অনতিবিলম্বে ভোলা ও পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন সীমানা পিলার স্থাপনের কাজসম্পন্ন করা এবং ধান কাটা মৌসুম শেষ পর্যন্ত পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা। মুজিব নগরের চেয়ারম্যান আব্দুল অদুদ মিয়া জানান, দক্ষিণ আইচা, দশমিনা ও গলাচিপা সীমানায় বিরোধীয় এলাকার গত বছর ভোলা ও পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন সীমানা পিলার স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়। গলাচিপার সাথে সীমানা পিলার স্থাপিত হলেও দশমিনা উপজেলার সাথে সীমানা পিলার স্থাপনে প্রভাবশালীদের বাধার কারণে প্রশাসন তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। তিনি আরও জানান, আইনগত এ জটিলতা নিরসন না হলে এ বছরও ধান কাটাকে কেন্দ্র করে সহিংসতার আশংকা রয়েছে।
দক্ষিণ আইচা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হানিফ জানান, মুজিবনগর ইউনিয়নের সীমানা বিরোধের কারণে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য শীঘ্রই পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হবে। পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের জন্য পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য চেয়ে জেলা পুলিশ প্রশাসনকে তিনি অবহিত করেছেন।