শনিবার, 26 মার্চ 2016 12:58

নরসিংদীতে প্রতিবছরই বাড়ছে অনাবাদি কৃষিজমি

রাইজিংবিডি ডট কম || নরসিংদীর চরাঞ্চলে প্রতিবছরই বাড়ছে অনাবাদী কৃষিজমির পরিমাণ। খরচের তুলনায় লাভ কম হওয়াসহ নানা কারণে ফসল আবাদ থেকে সরে যাচ্ছেন কৃষক। এতে পতিত পড়ে থাকছে কৃষকের শত শত হেক্টর কৃষিজমি। আর কৃষি কাজ না থাকায় বাধ্য হয়ে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন অনেকে। সরেজমিনে চরাঞ্চলে গিয়ে জানা যায়, নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নজুড়ে রয়েছে প্রায় ১৬০০ হেক্টর জমি। এর মধ্যে ২৫০ হেক্টর জমি বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে। মাটি উর্বর হওয়ায় চরাঞ্চলের এসব জমিতে ধান, পাট, মরিচ, আলু, বাদাম, বাঙ্গী, কুমড়া, করলাসহ বিভিন্ন ফসলের ভাল ফলন হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সার, কীটনাশক, জ্বালানি তেলসহ কৃষি উপকরণের দাম বৃদ্ধিতে জমিতে ফসলের খরচের তুলনায় লাভ কম হওয়ায় দিন দিন স্থানীয় কৃষকরা কৃষি আবাদ থেকে সরে যাচ্ছেন। এতে পতিত পড়ে আছে এই চরাঞ্চলের আড়াইশ হেক্টর কৃষিজমি।
এদিকে কৃষিকাজ ছেড়ে বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা বাড়ায় স্থানীয়ভাবে পাওয়া যাচ্ছে না কৃষিশ্রমিকও। মাঝে মাঝে পাওয়া গেলেও মজুরি দিতে হচ্ছে বেশি। বাড়তি খরচ দিয়ে ফসল চাষ করে অব্যাহত লোকসান গুনতে হচ্ছে কৃষকদের। লোকসানের কারণে চাষবাদ না করায় নরসিংদীর জেলার চরাঞ্চলীয় আরো ১১টি ইউনিয়ন বাঁশগাড়ি, চরমধুয়া, মির্জারচর, পাড়াতলী, শ্রীনগর, চানপুর, আলোকবালী, করিমপুর, নজরপুর, চরদীঘলদী ও চরআড়ালিয়ায় অনুরুপভাবে প্রতিবছর বাড়ছে অনাবাদি কৃষিজমির পরিমাণ।
নিলক্ষা ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামের কৃষক মো. মোহর আলী জানান, শ্রমিকের মজুরি, সার, কীটনাশক, জ্বালানি তেলসহ কৃষিকাজের উপকরণে দাম বৃদ্ধির কারণে কৃষিকাজ করে আর আগের মতো পোষায় না। তাই বাধ্য হয়ে সে জমিতে ফসল ফলান বন্ধ করে দিয়েছেন। অপর কৃষক রবি উল্লাহ জানান, কৃষিজমিতে কাজ করার মতো শ্রমিকই এখন আর আগের মতো পাওয়া যায় না। যারা জমিতে শ্রমিকের কাজ করতেন তারা এখন বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন উপকরণের দাম দিয়ে জমিতে ফসল ফলানোর সে খরচ পড়ে বাজারে তার অর্ধেকও পাওয়া যায় না। তাই তিনি তার জমিতে ফসল ফলানো বন্ধ করে দিয়েছেন।
এদিকে নানা কারণে কৃষক তাদের জমিতে ফসল আবাদ থেকে সরে যাওয়োর বিষয়টি স্বীকার করছেন রায়পুরা উপজেলার নিলক্ষ ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা একেএম হেমায়েত উদ্দিন। তিনি বলেন, এখন চরাঞ্চলে মানুষ কৃষিকাজ ছেড়ে বেশিভাগই বিদেশে যাওয়ার প্রবণতাই পছন্দ করছেন। নরসিংদীর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. লতাফত হোসেন জানান, জমি যাতে পতিত পড়ে না থাকে সে জন্য বিকল্প পদ্ধতির লাভজনক ফসল চাষের কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।