রবিবার, 24 এপ্রিল 2016 16:42

মহেশখালীতে ৪৫ প্রভাবশালীর দখলে ৩৮৮৯ একর খাসজমি

বণিক বার্তা || কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীতে অবৈধ দখলে চলে গেছে জেলা প্রশাসনের মালিকানাধীন ৩ হাজার ৮৮৯ একর খাসজমি। স্থানীয় ভূমি অফিস দখলদারদের একটি তালিকা তৈরি করেছে, যা সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। অবৈধ দখলদারের এ তালিকায় রয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতের নেতাসহ ৪৫ প্রভাবশালী ব্যক্তি। সূত্রমতে, অবৈধ দখলদারদের ওই তালিকাটি তৈরি করে গোরকঘাটা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ২০১৫ সালের ১২ আগস্ট মহেশখালী উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে পাঠান। পরে তালিকাটি যাচাই-বাছাই করে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের জন্য মহেশখালী সহকারী কমিশনারের কার্যালয় থেকে সম্প্রতি কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে।

গোরকঘাটা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ওই তালিকামতে, প্রভাবশালী দখলদারদের মধ্যে অন্যতম হলেন— মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, মহেশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আনোয়ার পাশা চৌধুরী, মহেশখালী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর ছিদ্দিক, মহেশখালী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ডা. আবদুল মোতালেব ও জামায়াত নেতা ছৈয়দুল হক সিকদার প্রমুখ। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, ‘এখনো বিষয়টির ব্যাপারে অবগত নই।’ তাই এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্যও করতে পারছেন না তিনি। একইভাবে বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শেখ ফরিদ আহমেদও। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ মুহূর্তে বিষয়টা আমার মনে পড়ছে না, দেখে বলতে হবে।’

ইউনিয়ন ভূমি অফিস সূত্র ও সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, মহেশখালী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর ছিদ্দিক ঘটিভাঙ্গা মৌজায় ৫০০ একর জমি অবৈধভাবে দখল করে ‘আবু বক্করের ঘোনা’ নাম দিয়ে লবণ ও চিংড়ি চাষ করছেন। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি এ ধরনের কোনো তালিকার কথা জানেন না বলে জানান। এছাড়া জমি দখলের কথা অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমার দখলে কোনো খাসজমি নেই।’ ভূমি অফিসের তালিকামতে, মহেশখালী মৌজার ফাটা ঘোনায় ২০ একর খাসজমি দখল করে রেখেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি আনোয়ার পাশা চৌধুরী। এছাড়া ঘটিভাঙ্গা মৌজার ফাটা ঘোনায় দুই একর ও ফকিরা ঘোনা মৌজার হাঁড়ি ঘোনায় চার একর জমিও তার দখলে রয়েছে। এসব জমিতে লবণ ও চিংড়ি চাষ করছেন আওয়ামী লীগের এ নেতা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনিও জমি দখলের কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘মহেশখালীতে অবৈধ দখলদারদের নিয়ে একাধিক তালিকা হয়েছে। কোথাও আমার নাম নেই। ভূমি অফিসের ওই তালিকায়ও আমার নাম থাকার কথা নয়।’ তিনি উল্টো প্রশ্ন করেন, ‘কে করেছে ওই তালিকাটা?’

তালিকামতে, ঘটিভাঙ্গা মৌজায় ৪০০ একর জমি অবৈধভাবে দখল করে লবণ ও চিংড়ি চাষ করেছেন ছৈয়দুল হক সিকদার। একইভাবে বিএনপির সাবেক উপজেলা সভাপতি ডা. আবদুল মোতালেবও ঘটিভাঙ্গা মৌজার বড়দিয়া ঘোনায় ১০ একর জমি দখল করে চিংড়ি চাষ করছেন। ফকিরা ঘোনা মৌজায় পাঁচ একর জমি দখল করে চিংড়ি চাষ করছেন মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক। এছাড়া ঘটিভাঙ্গা মৌজার বড়দিয়া ঘোনায়ও ১০ একর জমি দখলে রেখেছেন তিনি। তালিকায় উল্লিখিত অন্যদের মধ্যে ঘটিভাঙ্গা মৌজায় মুজিবুল হক ৫০০, এনায়েত উল্লাহ ৫০০, মো. শরীফ বাদশা ৫০০, হাবিউল্লাহ ৫০০, মো. ইউছুপ ২০০ ও মো. বাদশা ১০০ একর খাসজমি দখল করে রেখেছেন। এছাড়া কুতুঝুম মৌজায় ২০০ একর খাসজমি দখল করে রেখেছেন মো. রিদোয়ান। এ প্রসঙ্গে তালিকা প্রস্তুতকারী ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘২০১৫ সালে এ তালিকা তৈরি করা হলেও এ পর্যন্ত অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা যায়নি। ওই জমি অবৈধ দখলে থাকলেও উচ্ছেদ করার মতো কোনো ধরনের স্থাপনা না থাকায় অভিযান চালিয়েও সফলতা আসেনি। বরং উচ্ছেদ অভিযানে গেলে অবৈধ দখলদারদের লোকজন সটকে পড়ে। তখন কাউকে আর পাওয়া যায় না।’