সোমবার, 30 মে 2016 11:57

ফসলী জমির পানি চলাচল বন্ধ করে পুকুর খনন

১৫০ একর জমির চাষাবাদ ব্যাহতের আশঙ্কা

দৈনিক ইত্তেফাক || ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শাহপুর গ্রামের ১৫০ একর ফসলি জমির পানি চলাচলের একমাত্র পথ খাল বন্ধ করে পুকুর খনন করেছেন ওই গ্রামেরই এক প্রভাবশালী। এতে বর্ষা ও বৃষ্টির পানি জমে ফসলের মাঠ প্লাবিত হয়ে বিপাকে পড়েছেন গ্রামের কৃষি জমির মালিক ও শত শত প্রান্তিক কৃষক। এমনকি বর্তমানে প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকার ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কৃষকের মাথায় হাত। সরেজমিনে জমির মালিক ও প্রান্তিক কৃষকরা অভিযোগ করে জানান, মাঠের পানি আদিকাল থেকে এই সরকারি খাল দিয়ে ভাটির দিকে প্রবাহিত হয়ে আসছে। গ্রামের প্রভাবশালী মাইনউদ্দিন খোকন পরিকল্পিতভাবে এসব জমি গ্রাস করার জন্য সরকারি খালের পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে দু’টি পুকুর খনন করেছেন। এর দেখাদেখি শাহপুর-চন্দনাইল সংযোগ সড়কের খাল ভরাট করে অনেকেই বাড়ি তৈরির জন্য ভিটি তৈরি করেছেন। এতে বন্ধ হয়ে গেছে ১৫০ একর ফসলি জমির পানি চলাচলের একমাত্র পথ। কৃষকরা ক্ষোভের সঙ্গে জানান, এই ফসলি মাঠের পানি প্রবাহিত হতে না পারলে আমাদের অপূরণীয় ক্ষতি হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আমাদের দুর্দশার কথা অবগত করেছি, কিন্তু কোনো এক অদৃশ্য কারণে প্রতিকার হচ্ছে না।

এলাকার বিশিষ্ট সমাজসেবক মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম জানান, সি,এস ও এস,এ ১নং খতিয়ানের ২২১৬ নং দাগ সরকারি খাল। এই সরকারি খাল শাহপুর-চন্দনাইশ সংযোগ সড়কের সাথে যুক্ত হয়ে নবীনগর-মুরাদনগর উপজেলার মধ্যবর্তী অদখালের সাথে সংযুক্ত হয়েছে। বর্ষা ও বৃষ্টির পানি প্রবাহিত হয়ে অদখালে চলে যায়। কেউ নিজ স্বার্থ চরিতার্থে পুকুর খনন এবং পুকুরে যাওয়ার জন্য সরকারি খালে রাস্তা ও ভিটিবাড়ি তৈরি করে কৃষকের ফসলি জমির পানির প্রবাহ বন্ধ করতে পারেন না। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জনস্বার্থে পানি চলাচলের পথ যাতে বন্ধ না হয় সেই ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

এ বিষয়ে মাইনউদ্দিন খোকন বলেন, আমি পুকুর খনন করেছি আমার জমিতে, আমি কোনো পানি চলাচলের পথ বন্ধ করিনি। যে খালের কথা বলা হচ্ছে সেটা খাল নয় আরএস পর্চায় এটি হালট। এই হালটে সরকারিভাবে রাস্তা তৈরি হচ্ছে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি, জনস্বার্থে পানি চলাচলের পথ বন্ধ হবে এমন কোনো কাজ করা হবে না, বিষয়টি সরেজমিন দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।