সোমবার, 20 জুন 2016 14:43

ভূমি আইন-২০১৫ নিয়ে নাগরিক প্রস্তাবনা

Banglamail24,com || প্রস্তাবিত কৃষি ভূমি সুরক্ষা ও ভূমি ব্যবহার আইন-২০১৫ প্রণয়নে সরকারের পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়ে দশটি প্রস্তাবনা উত্থাপন করেছে গবেষণা ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান ইনসিডিন বাংলাদেশ। রোববার (১৯ জুন) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনী মিলনায়তনে ‘খসড়া কৃষি ভূমি সুরক্ষা ও ভূমি ব্যবহার আইন-২০১৫: নাগরিক প্রস্তাবনা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে প্রস্তাবনা তুলে ধরেন ইনসিডিন বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এ.কে.এম মাসুদ আলী।

মাসুদ আলী বলেন, ‘ইনসিডিন বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে কৃষক বান্ধব ভূমি সুরক্ষা ও ব্যবহার আইনের বিষয়ে নাগরিক প্রস্তাবনা প্রস্তুতে কাজ করে আসছে। বর্তমান প্রস্তাবনাটি ২০১৪ সাল থেকে কৃষক, কৃষি বিশেষজ্ঞ ও কৃষক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় এবং বিভিন্ন তথ্যসূত্র বিশ্লেষণের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে।’

ইনসিডিন বাংলাদেশ এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক পরামর্শসভা করেছে বলেও জানান তিনি। প্রস্তাবিত আইনটির শিরোনামে ‘ভূমি ব্যবহার’ এর বদলে ‘টেকসই ভূমি ব্যবহার’ উল্লেখের প্রস্তাব করে সংগঠনটি। অন্যান্য প্রস্তাবনাগুলো মধ্যে রয়েছে- 

১. আইনটির মুখবন্ধে, সংবিধানে জনগণের বেঁচে থাকার অধিকারের নিশ্চয়তা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং দেশের প্রকৃতি ও পরিবেশ সুরক্ষার সাংবিধানিক কর্তব্যের বিষয়টি আইনের ভূমিকাতে উল্লেখ থাকা।

২. প্রস্তাবিত আইনের সংজ্ঞা অংশে নতুন করে জেগে ওঠা জমিকে কৃষিজমি হিসেবে বিবেচনা করা এবং বন-সন্নিহিত অঞ্চল বাদে অন্যান্য অঞ্চলে জেগে ওঠা ভূমির কমপক্ষে ৮০ শতাংশ কৃষি জমির আওতায় অন্তর্ভূক্ত করা।

৩. খাস কৃষি জমিতে ভূমিহীনের অধিকার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে বিদ্যমান নীতির সাথে সমন্বিত করা যাতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষিত হয়।

৪. প্রস্তাবিত আইনে টিলা ও পাহাড়কে আলাদাভাবে কৃষি জমির অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি, বিষয়টি পরিমার্জন প্রয়োজন। এক্ষেত্রে কৃষি বৈচিত্র্য সুরক্ষা, আদিবাসীদের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, খাদ্য সার্বভৌমত্ব ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে।

৫. ৪নং ধারা ১(খ) অনুযায়ী কৃষিজমি সুরক্ষার যে সংজ্ঞা, তাতে রাসায়নিক ও অন্যান্য দূষণজনিত কারণে কৃষি জমির সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়নি। এ বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া উচিত বলে মনে করে ইনসিডিন বাংলাদেশে।

৬. প্রস্তাবিত আইনের ১২ নম্বর ধারায় অপরাধ, বিচার ও দণ্ডের বিধান তুলে ধরা হয়েছে। দণ্ডের পাশাপাশি প্রণোদনা প্রদানের আইনী বিধান থাকাও জরুরি বলে মনে করে ইনসিডিন (বাংলাদেশের বিবেচনায়)।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ইনসিডিন বাংলাদেশের অ্যাডভোকেসি চিফ নাসিমুল আহসান, নীতি বিশ্লেষক অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খান, মন্টি দেওয়ান, তারিকুল হাসান প্রমুখ।