বৃহস্পতিবার, 14 জুলাই 2016 10:47

কুমিল্লায় পাট চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষক

চলতি মৌসুমে ৫ উপজেলায় চাষাবাদ শূন্য!

দৈনিক ইত্তেফাক || কয়েক বছর আগেও পাটের মৌসুমে জেলার উঁচু-নিচু এলাকায় চারিদিকে দেখা যেত জমির পর জমিতে পাটের আবাদ, মাঠে মাঠে সবুজের সমারোহ। বাড়ির আঙ্গিনায়, রাস্তার পাশে ও আনাচে-কানাচে পাটের আঁশ ও পাটখড়ি শুকাতে ব্যস্ত সময় পার করত কৃষক-কৃষাণী। কিন্তু গ্রামীণ জনপদে এমন চিত্র এখন আর তেমন চোখে পড়ে না। ন্যায্য মূল্য না পাওয়া, মাঠপর্যায়ে কৃষি বিভাগ কর্তৃক কৃষকদেরকে পাট চাষে উত্সাহী না করা এবং সরকারিভাবে পাট চাষে কোনো ভর্তুকি না দেওয়ার কারণে কুমিল্লার কৃষকরা পাট চাষে দিন দিন আগ্রহ হারাচ্ছেন। এসব কারণে জেলার ১৬ উপজেলার মধ্যে ৫টি উপজেলায় চলতি মৌসুমে পাট চাষ শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। এছাড়া জেলার অপর উপজেলাগুলোতেও এ বছর পাট চাষে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে এ জেলায় ১ হাজার ৭৩১ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে দেশি ১ হাজার ৩৩১ হেক্টর এবং তোষা ৪০০ হেক্টর জমিতে। সূত্র জানায়, এ বছর জেলার ১৬টি উপজেলার মধ্যে আদর্শ সদর, সদর দক্ষিণ, চৌদ্দগ্রাম, নাঙ্গলকোট ও বরুড়া উপজেলায় পাট চাষের পরিমাণ শূন্য পর্যায়ে নেমে এসেছে। কৃষি বিভাগের তথ্যানুসারে এ বছর পাটের ভালো ফলন হয়েছে জেলার হোমনা, মুরাদনগর, ব্রাহ্মণপাড়া ও দেবিদ্বার উপজেলায়। তবে দিন দিন কৃষকরা পাট চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।

জেলার দেবিদ্বার উপজেলার সাইচাপাড়া গ্রামের কৃষক বজলু মিয়া, শব্দর আলী জানান, ‘একটি জমিতে পাট চাষ করে তা বিক্রির মাধ্যমে যে টাকা পাওয়া যায় একই পরিমাণ জমিতে অন্য যে কোনো ফসল করলে দ্বিগুণ টাকা আয় হয়। তাই কম জমিতে অধিক লাভের আশায় দিনে দিনে চাষিরা অন্য ফসলের দিকে মনোযোগী হয়ে পড়ছেন। তবে পাট খড়ি জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করতেই শুধু কিছু জমিতে আমরা এ বছর পাট চাষ করেছি।’ কৃষকরা আরও জানান, ‘স্থানীয় বাজারে পাটের ভালো মূল্য না থাকায় তারা পাট চাষ কমিয়ে সেখানে অন্য ফসল চাষ করছেন।’

কৃষকরা পাট চাষে সরকারি সহায়তা কামনা করেছেন। তবে কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আসাদুল্লাহ জানান, ‘পাটের সোনালী যুগ আবারো ফিরে আসছে, বর্তমান সরকার পাটজাত পণ্যের উত্পাদন, ব্যবহার ও বিপণনের বিষয়ে ভর্তুকিসহ নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। ভবিষ্যতে সরকার পাট চাষে কৃষকের আগ্রহী করতে ভর্তুকি দেওয়ারও চিন্তা-ভাবনা করছে। এতে কৃষকরা পাট চাষে আরও আগ্রহী হয়ে উঠবে এবং সর্বক্ষেত্রে সোনালী আঁশের কদর ও ব্যবহার বৃদ্ধি পাবে।’