বুধবার, 02 অগাস্ট 2017 12:01

সুস্বাদু, সুগন্ধি, নজরকাড়া আম

চাঁপাইনবাবগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টারের গাছে ঝুলছে ব্যানানা ম্যাঙ্গো। গত শনিবার তোলা ছবি l চাঁপাইনবাবগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টারের গাছে ঝুলছে ব্যানানা ম্যাঙ্গো। গত শনিবার তোলা ছবি l প্রথম আলো

প্রথম আলো || থাইল্যান্ড থেকে আসা আমের একটি জাত বাংলাদেশে ব্যানানা ম্যাঙ্গো নামে আমপ্রেমী ও কৃষিবিদদের পছন্দের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। কলার মতো লম্বা হলুদাভ ও হলুদের সঙ্গে সিঁদুরে রঙের মিশেলে দুধে আলতার মতো মনোলোভা এই আম শুধু দেখতেই আকর্ষণীয় নয়, এর স্বাদ-গন্ধও আপনার মন মাতাবে। উদ্যানতত্ত্ববিদদের মতে, এসব গুণের কারণেই ব্যানানা ম্যাঙ্গো আমপ্রেমী ও চাষিদের নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছে। তাঁদের মতে, জাতটি রপ্তানি উপযোগীও বটে। বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অধীনে সমন্বিত মানসম্পন্ন উদ্যান উন্নয়ন প্রকল্প ও সারা বছর ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কয়েক বছর ধরে এর সম্প্রসারণের কাজ চলছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টারের বাগানের কয়েকটি গাছে এখন থোকায় থোকায় ঝুলছে ব্যানানা ম্যাঙ্গো। সেন্টারের উপপরিচালক সাইফুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, এই সময় এমন ভালো আম আর হয় না। যেমন এর সুগন্ধ, তেমনি এর আকর্ষণীয় দুধে আলতা রং। এর গড় ওজন ৩৪০ গ্রাম। লম্বায় ৮-১০ ইঞ্চি। আঁটি খুবই সরু। খোসাও পাতলা। ভক্ষণযোগ্য অংশ ৮২.৩৫ ভাগ। মিষ্টতা (টিএসএস) ১৮-২০ ভাগ। ইতিমধ্যেই চাঁপাইনবাবগঞ্জে চাষি পর্যায়ে ছড়াতে শুরু করেছে এ আম। আমচাষিদের জন্য এক হাজারেরও বেশি এ আমের উন্নত মানের চারা হর্টিকালচার সেন্টারে মজুত রয়েছে। তিনি বলেন, ২০০৯ সালে এ হর্টিকালচার সেন্টারে এক বড় টবে এটি লাগানো হয়। ২০১৫ সালে বাগানের মাটিতে আটটি গাছ লাগানো হয়।

সারা বছর ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের পরামর্শক এস এম কামরুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ২০০২ সালে ফেনী হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যানতত্ত্ববিদ সঞ্জয় কুমার চাকলাদারের হাত ধরে থাইল্যান্ড থেকে এ আমের জাতটি বাংলাদেশে আসে। তিনি থাইল্যান্ডে শিক্ষাসফরে গিয়ে এ আমগাছের সায়ন (চারা কলম তৈরির উপযোগী ডগা) সংগ্রহ করে নিয়ে আসেন এবং ফেনী হর্টিকালচার সেন্টারে চারা তৈরি করে রোপণ করেন। মেহেরপুরের বারোদা হর্টিকালচার সেন্টারে বদলি হয়ে এলে তিনি সেখানেও এর চারা রোপণ করেন। সেখান থেকেই ২০০৯ সালে এর চারা নিয়ে এসে চাঁপাইনবাবগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টারে টবে রোপণ করা হয়। বর্তমানে সারা বছর সমন্বিত মানসম্পন্ন উদ্যান উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় পাহাড়ি অঞ্চলে (খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি) এর ব্যাপক সম্প্রসারণের কাজ চলছে। পাহাড়ি অঞ্চলে সমতলের প্রায় এক মাস আগে পাকে ব্যানানা ম্যাঙ্গো। ঢাকার বেশ কিছু শৌখিন আমপ্রেমীর বাড়ির ছাদেও দেখা মিলবে এ আমের। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এম এ রহিম পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ‘বাউ-১৪’ নামে এমন একটি জাত অবমুক্ত করেছেন। অধ্যাপক এম এ রহিম প্রথম আলোকে বলেন, আমটি উন্নত মানের হওয়ায় ২০১৩ সালে বাউ-১৪ নামে অবমুক্ত করা হয়েছে। ব্যানানা ম্যাঙ্গো নামে চাঁপাইনবাবগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টারে যে আমটি পাওয়া যাচ্ছে, সেটি একই ধরনের। জাতটি থাইল্যান্ড থেকে আসা। এটি থাইল্যান্ডে ‘মহালিশা’ নামে পরিচিত।