মঙ্গলবার, 29 সেপ্টেম্বর 2015 11:25

কৃষিতে নারী ও পুরুষের মজুরিবৈষম্য কমেছে

দৈনিক প্রথম আলো || দুই বছর ধরে দেশে নারী-পুরুষের মজুরিবৈষম্য ১০ শতাংশ হারে কমছে। সাত বছর আগেও দেশে নারী শ্রমিকেরা পুরুষের অর্ধেকেরও কম মজুরি পেতেন। চলতি বছরের মে মাসের মজুরির হিসাবে এই পার্থক্য ২৫ শতাংশে নেমে এসেছে। অর্থাৎ কৃষি মজুরি হিসেবে পুরুষ যদি ১০০ টাকা পান, নারী পান ৭৫ টাকা। সাত বছর আগে একই কাজের জন্য নারী পেতেন ৪৮ টাকা। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ কৃষি মজুরিবিষয়ক জরিপে এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। গত মে মাসে করা ওই জরিপে দেখা গেছে, কৃষি খাতে পুরুষের গড় মজুরি দিনের খাবার ছাড়া ৩২২ টাকা ও খাবারসহ ৩০০ টাকা। আর নারীদের মজুরি খাবার ছাড়া ২৪৪ টাকা ও খাবারসহ ২২৫ টাকা।
বিবিএসের মজুরি পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশে পুরুষেরা সবচেয়ে বেশি মজুরি পান কক্সবাজার জেলায়, দিনে ৪২৮ টাকা। ওই জেলার নারীরা পান ৩২৫ টাকা। নারীরা সবচেয়ে কম মজুরি পান নীলফামারী জেলায়, ১৬৩ টাকা। আর পুরুষেরা সবচেয়ে কম মজুরি পান চুয়াডাঙ্গায়, ২১৩ টাকা। এ ব্যাপারে পরিসংখ্যান ব্যুরোর যুগ্ম পরিচালক ও কৃষি শাখার প্রধান বিধান বড়াল বলেন, গ্রামীণ পুরুষের একটি বড় অংশ বর্তমানে প্রবাসী শ্রমিক এবং দেশের বিভিন্ন শহরাঞ্চলে ও শিল্পে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে। ফলে কৃষিকাজে নারীদের অংশগ্রহণ ও মজুরি দুটিই বাড়ছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্য পরিধারণ ও মূল্যায়ন ইউনিটের (এফপিএমইউ) ২০১৫ সালের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনেও কৃষিতে নারীদের মজুরি বেড়ে যাওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটির ‘জাতীয় খাদ্যনীতি ও কর্মপরিকল্পনা এবং দেশীয় বিনিয়োগ পরিকল্পনা পর্যবেক্ষণ’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাত বছর ধরে ধারাবাহিকভাবেই মজুরিবৈষম্য কমলেও ২০১৩-১৪ সালে বৈষম্য সবচেয়ে বেশি, অর্থাৎ ১০ শতাংশ কমেছে। বর্তমানে একজন পুরুষ দৈনিক মজুরি দিয়ে নয় কেজি এবং নারীরা ছয় কেজি চাল কিনতে পারেন।
এফপিএমইউর রিপোর্ট ২০১৫ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক বছরে নারী শ্রমিকের দক্ষতা ও চাহিদা বেড়ে যাওয়া ও গ্রামীণ পুরুষের বড় অংশ প্রবাসী শ্রমিক হিসেবে রূপান্তর এবং পুরুষ শ্রমিকদের অন্য খাতে স্থানান্তরের কারণে গ্রামে কৃষি-মজুরের সংকট দেখা দিচ্ছে। ওই শ্রমের ঘাটতি নারীরা পূরণ করে কৃষিকে এগিয়ে নিচ্ছেন।
খাদ্যনীতিবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (ইফপ্রি) ২০১৪ সালের শেষের দিকে প্রকাশিত আরেকটি প্রতিবেদনে কৃষি খাতের কাঠামোগত বদলের কারণে গ্রামীণ নারীদের মজুরিবৈষম্য কমে আসছে বলে তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
এ ব্যাপারে ইফপ্রি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আখতার আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, কৃষিতে নারী শ্রমের সঙ্গে গ্রামীণ অর্থনীতির কাঠামোগত বদলের সম্পর্ক আছে। গ্রামে কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি, ক্যাশ ফর ওয়ার্কসহ নানা সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে নারীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। ক্ষুদ্রঋণের আওতায় নারীদের সংখ্যাই বেশি। ফলে কৃষিকাজে মজুরি নিয়ে দরদাম করার সুযোগ পাচ্ছেন নারীরা। আর এতেই নারী-পুরুষের মজুরিবৈষম্য কমে আসছে বলে মনে হচ্ছে। বিবিএসের সর্বশেষ ২০১০ সালের শ্রমশক্তি জরিপে দেখা গেছে, দেশে কৃষিকাজে নিয়োজিত শ্রমশক্তির সংখ্যা ২ কোটি ৫৬ লাখ। এর মধ্যে নারী প্রায় ১ কোটি ৫ লাখ। এক দশক আগেও নারীদের এ সংখ্যা ছিল ৩৮ লাখ। অর্থাৎ ১০ বছরের ব্যবধানে কৃষিকাজে যুক্ত হয়েছেন ৬৭ লাখ নারী। তবে এক দশক ধরে প্রতিবছর কৃষিকাজে ৪ শতাংশ হারে কৃষিশ্রমিক বাড়লেও তা মূলত নারীনির্ভর। আর পুরুষের অংশগ্রহণ কমেছে সাড়ে ৩ শতাংশ।