মঙ্গলবার, 08 মার্চ 2016 14:46

চরকার চক্রে স্বাবলম্বী যে নারীরা

সমকাল || রংপুরের মিঠাপুকুর ও পীরগঞ্জ উপজেলায় পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও কৃষি কাজে সমান পারদর্শিতা দেখাচ্ছেন। এ বছর বোরো আবাদে নেমেছেন এ অঞ্চলের নারীরা। আর সেচ কাজেও তারা ব্যবহার করছেন সনাতন চরকা পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ বা ডিজেল ছাড়াই চরকা ঘুরিয়ে কুয়ো বা জলাশয় থেকে পানি তুলছেন তারা। বোরো আবাদ করে ওই দুই উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামের অনেক নারীই এখন স্বাবলম্বী।
রংপুর শহর থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরে মিঠাপুকুর উপজেলার ফুলচকি এ গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, তখনও সূর্য ওঠেনি। কিন্তু বোরো ক্ষেতের আইলের ধারে ধারে নারীদের কেউ চরকা বা কুয়া থেকে বাঁশের সঙ্গে দড়ি বেঁধে বালতি দিয়ে পানি তুলে জমিতে দিচ্ছেন। আবার কোনো নারী পা চালিত নলকূপ দিয়ে সেচ কাজ চালাচ্ছেন। ক্ষেতের আইলে লাগানো শত শত চরকা নারীরা চক্রাকারে ঘোরাচ্ছেন, সে এক অভাবনীয় দৃশ্য। ফুলচকি গ্রামেরই শামসুল মিয়ার স্ত্রী জোছনা বেগম (৪০) জানান, তিনি এবার তিন বিঘা জমি বর্গা নিয়ে বোরো আবাদ করেছেন। এ জন্য তারা জমির ধারেই দুটি চরকা বা কুয়া খনন করে তা থেকে পানি তুলে জমিতে সেচ দিচ্ছেন।
জোছনা বলেন, তার বড় ছেলে সপ্তম শ্রেণীতে পড়ে। এখন সংসারে আগের মতো অভাব নেই। এই গ্রামের বাসিন্দা শাহাবুল জানান, এখানকার প্রায় সব নারীই চরকার পানি দিয়ে বোরো আবাদ করেন। আর পুরুষরা মজুরি খেটে তা দিয়ে সংসার চালান। ময়েনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান জানান, চরকি বা কুয়ার পানি দিয়ে আবাদ করে ফুলচকি গ্রামের চেহারা পাল্টে দিয়েছেন নারীরা। উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নে দারিদ্র্যপীড়িত গ্রামের মধ্যে অন্যতম ছিল এ গ্রামটি। কিন্তু এখন সবাই স্বাবলম্বী। কৃষি সম্প্র্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক স ম আশরাফ আলী বলেন, মিঠাপুকুর ও পীরগঞ্জসহ অন্যান্য উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের নারীরা চরকা দিয়ে পানি তুলে বোরো আবাদ করে থাকেন। এতে বোরো আবাদ খরচ অনেক কম পড়ে।