সোমবার, 25 জুলাই 2016 10:46

কেঁচো সারে স্বাবলম্বী ২০ নারী

সমকাল || মিরসরাইয়ে কেঁচো সার উৎপাদন করে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন নারীরা। অপকা (অর্গানাইজেশন ফর দ্য পুওর কমিউনিটি অ্যাডভান্সমেন্ট) থেকে প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও আর্থিক সহায়তা নিয়ে নারীরা বসতবাড়িতে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করছেন প্রাকৃতিক এ সার। ফলে উপজেলার ২০ নারী এখন কেঁচো সার উৎপাদন ও বিক্রি করে সে টাকা দিয়ে সংসার খরচের জোগান দিচ্ছেন।জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের দেওয়ানপুর গ্রামের বিজলা রানী নাথ জানান, বেসরকারি সংস্থা অপকা থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে ২ হাজার কেঁচো ও ৪টি রিং অনুদান হিসেবে পেয়ে প্রথম শুরু করেন কেঁচো সারের উৎপাদন। নিজের সবজি ক্ষেতে এ সার ব্যবহার করে ভালো ফল পেয়েছেন। এখন এলাকার কৃষকরাও রাসায়নিক সারের পরিবর্তে বিভিন্ন ফসলে কেঁচো সার ব্যবহার করছেন। প্রতি মাসে দুই থেকে আড়াইশ' কেজি সার উৎপাদন করে প্রতি কেজি ১৫ টাকা করে বিক্রি করেন। বিজলার মতো উপজেলার সোনাপাহাড়, ধুম, দেওয়ানপুর, মোবারকঘোনা, হাজীশ্বরাই, দক্ষিণ সোনাপাহাড়, দুর্গাপুর গ্রামের বেলা রানী নাথ, বকুল বেগম, মিনতি রানী পাল, লক্ষ্মী রানী পাল, ননী বালা পালসহ বিভিন্ন গ্রামের ২০ নারী তাদের বসতবাড়ির আঙিনায় কেঁচো সার উৎপাদন করে বিক্রি করছেন। সার বিক্রির টাকায় তারাও সংসার খরচের জোগান দিচ্ছেন। অপকার টেকনিক্যাল অফিসার (কৃষি) সাবাব ফারহান জানান, অপকার প্রশিক্ষিত নারীরা তাদের বাড়ির আঙিনায় কেঁচো সার উৎপাদন করে নিজেরা ব্যবহার করে তা আবার অন্যত্র বিক্রি করছেন। কেঁচো সার শুধু ফসলের মাঠে নয়, পুকুরে মাছের খাবার হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। এ সার উৎপাদনের পর দুই থেকে তিন বছর সংরক্ষণ করা যায়।মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বুলবুল আহম্মদ জানান, অনান্য সারের চেয়ে কেঁচো সার ২৫ শতাংশ কম ব্যবহার করে একই ফলন পাওয়া যায়।